বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে ঢাকার রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন শোহান শাহ (২৯)। বুকে গুলি নিয়ে ৩৯ দিন লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন তিনি।
গত বুধবার (২৯ আগস্ট) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শোহানের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিন বিকেলে শ্রীপুর গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
গত ১৯ জুলাই ঢাকার রামপুরা সিএনজি পাম্প এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শোহান। এর ৩৯ দিন পর ২৭ আগস্ট ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
শোহান শাহের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা সদরের আলতাফ হোসেন মহিলা কলেজ রোড এলাকায়। শোহানকে হারিয়ে এখন পরিবারের সদস্যরা পড়েছেন অকুল পাথারে।
জানা যায়, অল্প বয়সেই সংসারের হাল ধরেছিলেন শোহান শাহ। মা-বাবা, স্ত্রী ও স্কুলছাত্র ছোট ভাইয়ের সব খরচের জোগান আসত একজনের বেতন থেকেই। পরিবারের সবার ভরসা ছিলেন তিনি। অর্থ সাশ্রয়ের জন্য স্ত্রীকে বাড়িতে মা-বাবার কাছে রেখে ঢাকায় মেসে থেকে চাকরি করছিলেন। গ্রামের বাড়িতে নতুন ঘরও নির্মাণ করা হচ্ছিল। যেখানে স্ত্রী শম্পা বেগমের সঙ্গে সুখের সংসার পাততে চেয়েছিলেন শোহান শাহ। তবে তাদের সেই স্বপ্ন অপূরণ থেকে গেল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মাগুরার শ্রীপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে প্রায় ১০ বছর আগে সংসারের হাল ধরতে চাকরিতে যোগ দেন শোহান। সর্বশেষ ঢাকার রামপুরা এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। তার বাবা শাহ সেকেন্দার এক দশকের বেশি সময় আগে নিজের ব্যবসা গুটিয়ে বেকার হয়ে পড়েন। তার একমাত্র ছোট ভাই অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।
শোহানের সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শোহানকে প্রথমে বেটার লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যান তার দুই সহকর্মী। সেখান থেকে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে এক্স-রে করে বুকে গুলি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ভর্তি নেয়নি। কারণ তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংঘর্ষ চলছিল।
প্রায় ১২ ঘণ্টা আরও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শোহানকে। সেখানে ওই দিনই ছোট একটা অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে শরীরে গুলি থেকে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে সিএমইচে রেফার্ড করা হয়।









