শিলং থেকে: এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে গত বৃহস্পতিবার ভারতে এসেছে বাংলাদেশ। জামাল ভুঁইয়া-হামজা চৌধুরীরা তৃতীয় দিনের অনুশীলনও শেষ করেছেন। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না দল, বলছেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার আমের খান।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের নিয়মানুযায়ী, ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা আগে সফরকারী দলকে ম্যাচের শহরে পৌঁছাতে হয়। ম্যাচ শুরুর দুইদিন আগে স্বাগতিক দলকে সফরকারী দলের আতিথেয়তা দেয়ার দায়িত্ব আসে আনুষ্ঠানিকভাবে।
ম্যাচ ভেন্যুতে সফরকারীদের খেলার আগেরদিন ঘণ্টাখানেক অনুশীলন করতে দেয়া বাধ্যতামূলক এএফসির আইনে। এর একদিন আগে অনুশীলন ভেন্যুর (ম্যাচ ভেন্যুর বাইরে) ব্যবস্থা করে দেয়া স্বাগতিক ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব। সেসব নিয়ে আপত্তি। রোববার লাল-সবুজের দলের অনুশীলনের ফাঁকে আমের খানের কথায় ভেসে উঠল পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার কথা।
‘ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে। আপনারা এসেছেন এবং এই ঠাণ্ডাটা উপভোগ করছেন। তবে আমরা যেটা অনুভব করছি সেটা হচ্ছে, আজকে আমাদের অফিসিয়ালি ম্যাচ ডে। কিন্তু আজ ইন্ডিয়া মেইন পিচে অনুশীলন করেছে। গতকাল রাতে ঠিক করা যে আমরা এই (মূল ভ্যানু) মাঠে অনুশীলন করব। কিন্তু সকাল থেকে আমরা যে ধরনের একটা পরিকল্পনায় আগাই, সেটাকে এক প্রকার নষ্ট করা হচ্ছে। যাই হোক, এসব আমরা আগে থেকেই জানতাম এমনকিছু হবে, এবং তাই হচ্ছে।’
‘আজকেও ম্যাচ কমিশনারের সাথে সকালে কথা হয়েছে। যেহেতু আজকে অফিসিয়াল অনুশীলনের দিন এবং ভারত যেহেতু মূল ভেনুতে অনুশীলন করছে, তাই আমরা সেটি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা যখন দেখলাম অনুশীলনের জন্য আমাদেরকে সেই সুযোগটা করে দেয়া হচ্ছে না, তখন আমাদের সভাপতির সঙ্গে কথা বলি। তিনিও দেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত আমরা এই মাঠটাই পেয়েছি।’
শিলংয়ে রোববার সকাল থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। এরমধ্যে ছিল ঠাণ্ডার প্রকোপ। বিকেলে অনুশীলনের সময়ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির দেখা মিলেছে। তবে এমন আবহাওয়ায় দল মানিয়ে নিতে পারবে, মনে করছেন আমের খান।
‘যাই হোক, যেহেতু আমরা সৌদি আরবে একই ঠাণ্ডার মধ্যে অনুশীলন করেছি, আশা করি এখানেও আমরা সেটি মানিয়ে নিতে পারব। ওখানকার মতোই এখানের আবহাওয়া। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদেরকে খেলতে হবে, কারণ আমরা খেলার প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি।’
২০ মার্চ বিকেলে শিলংয়ে পৌঁছান হামজা-জামালরা। ২১ মার্চ উত্তর-পূর্ব পার্বত্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ, ২২ ও ২৩ মার্চ জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামের টার্ফে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। এই দুই অনুশীলনেই ছিল অস্বস্তি। নেহেরু মাঠ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট নয়, আর ঘাসের মাঠে খেলার আগে টার্ফে অনুশীলনও আদর্শ নয়।









