আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনে দেশে গণতন্ত্র ফিরেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। এছাড়া তিনি সরকারের জনপ্রিয়তা পরীক্ষায় বিএনপিকে নির্বাচনে আসার অনুরোধ জানান।
তিনি আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে শেখ হাসিনার সরকারের জনপ্রিয়তা আছে কি না, তা দেখার জন্য আমি বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে আসার অনুরোধ জানাই। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তারা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পূর্ণ শক্তি নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রথমে ২৯টি আসন পেয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পালিয়ে গিয়েছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নির্বাচনী ট্রেনে উঠে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল।
তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করবো, আসুন এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যে সফর করেছেন। যারা সফরে ছিলেন, তারা দেখতে পেরেছে কিভাবে প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সম্মান করেছে। তারা বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য ৩০ মিলিয়ন ইয়েন চুক্তি করেছে।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক ছুটির দিনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য অনুষ্ঠান ডেকেছে। কারণ শনিবার ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কোনো সময় ছিল না। শুধু প্রধানমন্ত্রীর জন্য তারা অনুষ্ঠান করেছে, নতুন করে বাংলাদেশে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। আর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, আপনি আমার আইডল। আমার স্ত্রী ও সন্তানরা আপনাকে আইডল মানেন।
এ সময় বিএনপি নেতাদের চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ফখরুল সাহেবরা যদি এগুলো শুনতে না পান, তাহলে কানের ডাক্তার দেখান। যদি দেখতে না পান, তাহলে চোখের ডাক্তার দেখান। আপনাদের যে চিকিৎসক সংগঠন ড্যাব আছে, তাদের থেকে চিকিৎসা নেন। তারা না পারলে, আমাদের স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন।
মন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল ইনডেক্স, হিউম্যান ইনডেক্স ও হেলথ ইনডেক্সে বাংলাদেশ ভারতকেও অতিক্রম করেছে। আমরা মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে ভারতকে ২০২১ সালে অতিক্রম করেছি। এ সাফল্যের কারণে ভারত ও পাকিস্তানের টক শো’তে এবং ওই দু’দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমাদের দেশের টেলিভিশনগুলোতে সেভাবে শেখ হাসিনার প্রশংসা করা হয়নি। এটিই বাস্তবতা। মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে হবে। সেজন্য জাতির সাফল্য ও অর্জন গণমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। অবশ্যই গণমাধ্যমে দায়িত্বশীলদের ভুল এবং সরকারের সমালোচনাও হবে। কিন্তু জাতির সাফল্য যদি তুলে ধরা না হয়, তাহলে মানুষ আশাবাদী হবে না।
ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হবে। এ জন্য ছাত্রলীগের কর্মীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে অসত্য প্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ ও সক্রিয় থাকতে হবে।
এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ।







