প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আজকে যে ষড়যন্ত্র চলছে সেটা এদেশের উন্নয়ন ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন, সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় আমাদের অসম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শেখ হাসিনাকে ছলে-বলে-কৌশলে দুর্বল করতে পারলেই পরাজিত শক্তি উত্থান হতে পারে।
শনিবার ৬ এপ্রিল পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মতিঝিল টি অ্যান্ড টি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে যুবলীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পরশ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ৭১’র পরাজিত শক্তি, ৭৫’র ঘাতক এবং তাদের দোসরদের সামনে একমাত্র বাধা শেখ হাসিনা। তাকে ছলে-বলে-কৌশলে দুর্বল করতে পারলেই পরাজিত শক্তি উত্থান হতে পারে। সেকারণে এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের এক পরিকল্পিত নীলনকশার বাস্তবায়ন চলছে। এই নীলনকশার অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে মিথ্যাচার এবং অপপ্রচার।
শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, সারাক্ষণ শেখ হাসিনার গণমানুষের সরকারকে ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী এবং আধিপত্তবাদি দানব সরকার বলে লেবেল করে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল সাহেবরা। ফ্যাসিবাদের প্রকৃত সংজ্ঞাই মানুষ এখন ভুলে গেছে এদের মিথ্যাচারের ফলে। ৭১-এর ঘাতক এবং ৭৫-এর ঘাতকদের নিয়ে যেই দলের সৃষ্টি, যেই দল যখনই ক্ষমতা দখল করেছে সর্বদা এদের মানুষকে শোষণ, নিপীড়ন এবং নির্যাতন করেছে, তারা এখন শেখ হাসিনার জনগণের সরকারকে সারাক্ষণ গালিগালাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন-আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন- যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সঞ্চালনা করেন- যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে, বিএনপি-জামায়াতের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক ও সাবধান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এরা ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব গিলে খাবে, গণতন্ত্র গিলে খাবে, মানুষের নিরাপত্তা গিলে খাবে, গোটা বাংলাদেশ গিলে খাবে। বিএনপি এখন গলার জোড় আর মুখের বিষ ছাড়া শক্তিহীন হয়ে পড়েছে। শক্তি যখন কমে যায় তখন মুখের বিষ বেড়ে যায়। শক্তি কমে গেছে, নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি, আন্দোলনের ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিএনপির মাথা ব্যথার কারণ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় আছেন ততদিন গণতন্ত্র, স্বাধীনতা নিরাপদ থাকবে এই কথা আমি গভীর প্রত্যয়ের সঙ্গে বলতে চাই।
আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, তারা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে পাকিস্তানি রাষ্ট্র বানানোর স্বপ্ন দেখে। যারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছিল, তারা সংবিধানকে পদদলিত করেছিল, যারা বহু দলীয় গণতন্ত্রের নামে বাংলাদেশের মানুষের অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল সেই বিএনপি-জামাত এখনো বাংলাদেশের মানুষকে বিপথগামী করতে চায়, অপরাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক শক্তি বিএনপি-জামাতের বিপক্ষে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে তাদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. হাবিবুর রহমান পবন, ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল কান্তি জোদ্দার, তাজউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, মুহাম্মদ বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলাম, মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মো. গোলাম কিবরিয়া শামীমসহ কেন্দ্রীয় মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।







