দেশীয় চলচ্চিত্রে তারকাখচিত বাণিজ্যিক সিনেমার যে ধারাবাহিক ভাটা চলছিল, মহামারি পরবর্তীকালে তা কাটিয়ে তুলেছেন মূলত একাই—শাকিব খান। ‘প্রিয়তমা’, ‘তুফান’ এবং সর্বশেষ ‘বরবাদ’-এর মাধ্যমে হলগুলোতে দর্শক ফিরিয়ে আনেন এই সুপারস্টার।
এবার ঈদুল আযহায় মুক্তি পাওয়া রায়হান রাফী পরিচালিত ‘তাণ্ডব’ সিনেমাটিও প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে এসেছে সেই উন্মাদনা—যেখানে দর্শক শুধু আসছেনই না, আসছেন হুমড়ি খেয়ে।
দেশজুড়ে মোট ১৩৯টি প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে ১৩৩টিতেই একযোগে চলছে ‘তাণ্ডব’। উপচে পড়া ভিড়, হলে হলে হাউজফুল, মিডনাইট শো-সব যেন একসঙ্গে দেখা যায় এই তারকার নতুন ছবি মুক্তি পেলে! যে রেওয়াজ এবারের ঈদুল আযহায় ‘তাণ্ডব’ মুক্তির পরর বজায় আছে!
দেশের ১৩৯ সিনেমা হলের মধ্যে ১৩৩টি হলেই একচেটিয়া উন্মাদনা তৈরি করেছে ‘তাণ্ডব’। সিঙ্গেল স্ক্রিন থেকে সিনেপ্লেক্স সবখানে দর্শক শাকিবের টানে প্রেক্ষাগৃহে ছুটছেন। ছবি দেখে দর্শকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিভিউ দিচ্ছেন, নিজের অনুভূতির কথা জানাচ্ছেন। স্টার সিনেপ্লেক্সের মতো মাল্টিপ্লেক্সে প্রথম দিন যেখানে ছিল ২৮টি শো, দর্শকচাহিদার কারণে দ্বিতীয় দিনেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫টিতে।
মুক্তির দ্বিতীয় দিন ‘তাণ্ডব’ দেখে মুসলিমা আক্তার নামে বেসরকারি কলেজের শিক্ষিকা বলেন, ঈদের দিনের টিকিট পাইনি সিনেপ্লেক্সে। দ্বিতীয় দিনের টিকিট পেয়ে লায়নে। প্রিয়তমার পর আমরা সপরিবারে শাকিবের ছবি দেখা শুরু করি। তার রাজকুমার, তুফান, বরবাদ সবগুলো আমাদের মুগ্ধ করেছে। তাণ্ডবে শাকিব খান লিজেন্ডারি অভিনয় করেছেন। মনে হয়েছে তিনি বিশ্বমানের অ্যাক্টর। সেই সঙ্গে সাবিলা নূরকেও বিগস্ক্রিনে দেখে খুব ভালো লেগেছে।
নাজমুস সাকিব লিখেছেন, শাকিবের অন্য লেভেলের এনার্জি দেখলাম ‘তাণ্ডব’ সিনেমায়। ভয়েস মডুলেশন করে নিজের গলার স্বর চেঞ্জ করে ফেলেছেন পুরো সিনেমায়। আর কী পরিমাণ শারীরিক পরিশ্রম যে করেছেন, তা প্রতিটা দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে; বিশেষ করে অ্যাকশন সিনে। তাণ্ডব আমি আরও একাধিকবার দেখবো। আমার জন্য এখন পর্যন্ত বাংলাদেশী সিনেমার ক্ষেত্রে বেস্ট সিনেম্যাটিক এক্সপেরিয়েন্স হচ্ছে ‘তাণ্ডব’।
দেশের একাধিক বুকিং এজেন্ট ও সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ ঈদের দ্বিতীয় দিন চ্যানেল আই অনলাইনকে জানায়, বরবাদের পর আবার ব্যবসা দিচ্ছে শাকিবের ‘তাণ্ডব’। তবে ‘বরবাদ’ ছাড়াতে পারবে কিনা সেটা বলার সময় এখনো আসেনি। আরও কয়েকদিন পর বলা যাবে, ‘তাণ্ডব’ কোন দিকে যাচ্ছে।
মধুমিতার কর্ণধার ইফতেখার নওশাদ বলেন, ‘শাকিব খান অভিনীত ছবি মানেই সিনেমা হলের প্রাণ ফিরে
আসা। ছবিটি মুক্তির পর আমাদের এখানে খুবই ভালো যাচ্ছে। বরবাদ দিয়ে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। তাণ্ডবের ওপেনিং ভালো গেছে। দর্শকদের উপস্থিতিতে আমরা আনন্দিত। এভাবে ব্যবসা করলে সিনেমা হলের সুদিন ফিরবে।
‘তাণ্ডব’ পরিচালনা করেছেন রায়হান রাফী, প্রযোজনা করেছে আলফা আই। তাদের কাছ থেকে জানা যায়, দ্বিতীয় দিনে স্টার সিনেপ্লেক্সে ৪৫ শো পেয়েছে তাণ্ডব। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশা করছে, স্টার সিনেপ্লেক্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ শো দখল করে নেবে শাকিবের এই ছবি!
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাণ্ডব নিয়ে চলছে আলোচনা। বিশেষ করে শাকিব খানের ভিন্নধর্মী লুক, সংলাপ ও অ্যাকশন দৃশ্য প্রশংসিত হয়েছে ভক্তদের কাছে। অনেকে বলছেন, এটি শাকিবের ক্যারিয়ারের অন্যতম বেস্ট পারফরম্যান্স।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ঈদুল ফিতরের পর ঈদুল আযহাতেও বাণিজ্যিক ছবি ঘিরে দেশজুড়ে এমন উন্মাদনা প্রমাণ করে যে, তারকাদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও নির্মাণের মান একসাথে থাকলে দর্শক হলে ফিরবেই! ‘বরবাদ’-এর পর ‘তাণ্ডব’ নিয়ে মানুষের এমন উচ্ছ্বাস ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যরকম সুবাতাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে!









