শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে। টাইগার অলরাউন্ডারের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে। জবাবে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আমিনুল হকের উদাহরণ টেনেছেন তিনি। তার মতে, সাকিবের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে আলোচনা হলেও আমিনুলের বিরুদ্ধে মামলার সময় চুপ ছিল দেশের গণমাধ্যম।
বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নে এমনটাই জানান আসিফ নজরুল। বলেছেন, ‘এটাও আওয়ামী লীগই তো শুরু করেছে, ঠিক না? আমিনুল যে ফুটবলার, সাকিব তো আর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য কিছু বয়ে আনে নাই। সাকিব নিজেই অনেক কিছু অর্জন করেছে। আমিনুল তো বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য পুরস্কার বয়ে এনেছিল। এনেছিল না? জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন ছিল। আমিনুলকে যেভাবে অত্যাচার করা হয়েছে, তখন কি আপনারা প্রশ্ন করেছিলেন? আমিনুলকে তো জেলে ভরা হয়েছে, সাকিবের বিরুদ্ধে জাস্ট মামলা হয়েছে।’
‘এটা পুলিশ প্রশাসনের ব্যাপার। আমাদের যতটুকু বলার, বলার চেষ্টা করেছি। মামলা হয়া বা এফআইআর হয়া মানেই তো গ্রেপ্তার না। আমার বিশ্বাস, আমাদের মানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেয়া হবে, যাতে কেউ অতি উৎসাহিত হয়ে গ্রেপ্তার না করতে যায়।’
২০০৩ সাফজয়ী জাতীয় দলের গোলরক্ষক, সাবেক অধিনায়ক ও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় আমিনুলের হকের বিরুদ্ধে মামলার সময় দেশের গণমাধ্যম চুপ ছিল বলে অভিযোগ আসিফ নজরুলের। বলেছেন, ‘আমিনুলকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, দিনের পর দিন জামিন দিচ্ছিল না। দিনের পর দিন। আমি নিজে শুধু কলাম লিখেছি। আপনাদের কাউকে লিখতে দেখি নাই, আপনাদের পত্রিকায়। একটা জাতীয় দলের (ফুটবলার), বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সাফ গেমসে। তাকে গ্রেপ্তার করেছে, দিনের পর দিন জামিন রিজেক্ট করেছে।’
গত ২২ আগস্ট গার্মেন্টসকর্মী রুবেলকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে ডিএমপির আদাবর থানায় সাকিবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার ২৮ নম্বর এজাহার নামীয় আসামি করা হয়েছে টাইগার অলরাউন্ডারকে। রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাবেক সংসদ সদস্য-চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদসহ ১৫৬ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে একই মামলায়।









