ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদ রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ডিজনি ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শাহজাহানের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে দখল করে নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়াও দখলবাজ শাহে আলম মুরাদের কালো থাবায় নিঃস্ব হওয়ার দ্বারপ্রান্তে একই মালিকের প্রতিষ্ঠান দারুল মাকান হাউজিং লিমিটেড ও দারুল ইসলাম হাউজিং লিমিটেড। মাকান মাল্টি পার্পাস কো অপারেটিভ সোসাইটি নামের সমিতিও গ্রাস করতে চেয়েছিল মুরাদ।
২০১৫ সালে মুরাদ তার ভয়াল থাবায় স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে নিজ দখলে নিয়ে নেন ডিজনি ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেড। সেখানে এমডি শাহজাহানের শেয়ার সহ আরও ৫ জনের শেয়ার জয়েন্ট স্টকে শুণ্য করে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভুয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে মুরাদ নিজেকে সেই কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে ঘোষণা দেয়। পরে বাকি দুটি কোম্পানি (দারুল মাকান হাউজিং লিমিটেড ও দারুল ইসলাম হাউজিং লিমিটেড) জয়েন্ট স্টকে একই ভাবে দখল করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে এই মুরাদ তার অনুসারীদের নিয়ে কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
জানা যায়, শাহে আলম মুরাদ গ্রাহকদের দ্বারা প্রেশার তৈরির প্রচেষ্টায় আদালতে মাইনরিটি শেয়ার এক্টকে ব্যবহার করে ২০১৮ সালে দুটি কোম্পানি ম্যাটার মামলা দায়ের করেন। ৫ই আগস্ট এর আগ পর্যন্ত এই মুরাদ ও তার অনুসারি বিপথগামী কতিপয় ডিরেক্টর মিলে কোম্পানি দখল করে তার সম্পূর্ণ সম্পদ ভোগদখল করা ও গ্রাহক হয়রানি করার জন্যে কোম্পানি ম্যাটার মামলায় নানান সময় কোম্পানিগুলোর ওপর ইঞ্জানকশন, স্টে অর্ডার, অর্ডার মডিফাইড করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সহ আইনের অপব্যবহার করে নাজেহাল অবস্থার সৃষ্টি করেছেন। যেখানে তাদের প্রত্যক্ষ সাহায্য করেছেন তাদেরই নিযুক্ত করা অ্যাডভোকেট এ এম আমিনুদ্দিন, যিনি কিছুদিন পরেই এটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান।
আরও জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর এমডি শাহজাহানের শেয়ার স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে নেন মুরাদ এবং ২০১৫ সালের ৬ জুন একটি ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে তিনি নিজেকে ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে ঘোষণা করেন। ২০১৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর এর সত্যতা পাওয়া গেলে কোম্পানি আইনে ২০১৬ সালে একটি মামলা করা হয়।
২০১৪ সালে ঝামেলা চলাকালিন মাকান মাল্টি পার্পাস কো অপারেটিভ সোসাইটির নির্বাচন (সিলেকশন) অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে অংশ নিতে গেলে এই দুষ্ট চক্রটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শাহে আলম মুরাদের নেতৃত্বে শাহজাহান ও খাইরুল আলমকে বাধ্যতামুলক পদত্যাগ করিয়ে নেতৃত্ব দেওয়া হয় মো. শফিক ও নুরুল আফসারকে । সামগ্রিকভাবে তিনটি কোম্পানি ও একটি সমিতির সম্পূর্ণ গ্রাস করার লক্ষ্যে একই সময়ে তারা ষড়যন্ত্র করেন। এর মাঝে ডিজনি ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেড সম্পূর্ণ গ্রাস করে ফেলেন।
সার্বিক বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শাহজাহান বলেন, ২০১৩ সালে দখলবাজ শাহে আলম মুরাদ প্রতিনিয়ত আমাকে কোম্পানিগুলো তার কাছে হস্তান্তর করার জন্যে চাপ প্রয়োগ করা শুরু করেন। এর মাঝে একদিন আমাকে পান্থপথের অফিসে আটকে রেখে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, আমি কোনরকমভাবে পালিয়ে এসেছিলাম।
তিনি বলেন, একের পর এক মিথ্যে মামলা, প্রশাসনিকভাবে হেনস্তা, দলীয় গুন্ডাবাহিনীর লোকজন লেলিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন সময়ে হত্যাচেষ্টা ও গুমে প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকত দখলবাজ মুরাদ। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে শোষন, বঞ্চনা ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়ে আজ আমি নিঃস্ব প্রায়। কোম্পানি বাঁচানো ও গ্রাহকের আস্থা রক্ষার তাগিদে নিজের ব্যক্তিগত অর্থ-সম্পদ বিক্রয় করা সহ নিজের মোট সম্পদের সিংহভাগ মর্টগেজে রেখে কোনমতে টিকে আছি।
গত ২৮ এপ্রিল ধানমণ্ডি থানার আরো এক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদকে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম. এ. আজহারুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
শাহে আলম মুরাদের মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৪ অগাস্টে রাজধানীর সাইন্স ল্যাব এলাকা থেকে জিগাতলা এলাকায় যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন মো. রিয়াজ (২৩)। দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৭ অগাস্টের বিকেলে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নিহতের মা শাফিয়া বেগম ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
এরআগে গত ১৭ এপ্রিল রাজধানীর উত্তরা থেকে শাহে আলম মুরাদকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।









