কখনও সারা, কখনও সাবা, কখনও আবার রঙ্গিলা। প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে প্রতারণার জাল ফাঁদতেন যুবতী। সেই ফাঁদে পা দিয়েই সর্বস্বান্ত গবেষক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, আইনজীবীরা। বিয়ের পরেই সোনাগয়না, টাকাপয়সা নিয়ে পালানো। অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৭ বিয়ে করা যুবতী।
রোববার (২ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বীরভূমের লাভপুরের এই ঘটনা। গত বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ধৃতের নাম আয়েশা সুলতানা, ওরফে পাপিয়া খাতুন। তিনি বীরভূমের লাভপুরের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে বীরভূম থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে মুর্শিদাবাদের পুলিশ। গত কয়েক মাসে অন্তত সাত যুবককে ‘প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে’ তাদের বিয়ে করে সর্বস্ব লুট করেছেন আয়েশা। গ্রেপ্তারের আগের রাতেও বীরভূমের নলহাটির এক যুবককে বিয়ে করেছিলেন তিনি।
তদন্তকারীদের সূত্র জানা যায়, ছদ্মনাম ব্যবহার করে সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন পেশার যুবকদের সঙ্গে আলাপ করতেন আয়েশা। তাদেরই একজন পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা। পেশায় গবেষক। থাকতেন সিঙ্গাপুরে। প্রেমের জালে জড়িয়ে তাকে দেশে ডেকে এনে সম্প্রতি বিয়েও করেছিলেন আয়েশা। বহরমপুরের রাধারঘাটে দু’জনে সংসার পাতেন। কিন্তু ২০ দিন কাটতে না-কাটতেই পালিয়ে যান যুবতী। সঙ্গে নিয়ে যান যুবকের তিন লাখ রুপি, ফোন আর ল্যাপটপ।
পুলিশ জানায়, শুধু ওই গবেষক যুবকই নন, আশেয়ার ফাঁদে পা দিয়েছেন আইনজীবী, ব্যবসায়ীরাও। সমাজমাধ্যমে শুধু নাম ভাড়ানোই নয়, সমাজমাধ্যমের প্রোফাইলে ব্যবহার করতেন অন্যের ছবিও।
বহরমপুর থানার এক কর্মকর্তা বলেন, ওই যুবতীর হাতে একাধিক যুবক প্রতারিত হয়েছেন। নাম, পরিচয়, চেহারা ভাঁড়িয়ে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে ভাব জমাতেন ওই যুবতী।
গ্রেপ্তারের পর আয়েশার কাছ থেকে ল্যাপটপ ও বিভিন্ন জাল নথিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।









