কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগে এখন ভোগান্তিতে রয়েছেন সালমান খান। যেন মৃত্যু পরোয়ানা ঝুলছে তার মাথার উপর! এই প্রজাতির হরিণকে পবিত্র বলে মনে করেন লরেন্স বিষ্ণোইদের গ্যাং। তাই ভাবেবেগে আঘাত লেগেছে তাদের। প্রতিশোধ নিতে সালমানকে হত্যা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সেই বিষয় নিয়েই এবার মুখ খুললেন সালমান খানের বাবা সেলিম খান। সেলিম খানের দাবি, তার ছেলে কখনও কোন পশুর ক্ষতি করতেই পারেন না। এমনকি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার সময় ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিতই ছিলেন না বলে দাবি তার বাবার। সালমান এতটাই পশুপ্রেমী যে নিজের অসুস্থ পোষ্য কুকুরের সেবা করেছেন। সেই কুকুরটি মারা যাওয়ার পরে অঝোরে কেঁদেছেন ভাইজান।
সেলিম বলেন, “সালমান আমাকে কখনও মিথ্যে বলে না। পশুদের মারতে ও মোটেই পছন্দ করে না। ও পশুদের খুব ভালবাসে।” তবে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোই বার বার দাবি করেছে, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে সালমানকে। এই প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, “ক্ষমা চাওয়ার অর্থ মেনে নেওয়া যে সে ওই হরিণ হত্যা করেছে। আমরা একটা আরশোলাও কোন দিন মারিনি। তাহলে কেন ক্ষমা চাইবে সালমান? কার কাছে ক্ষমা চাইবে? ওরা কত জনের কাছে ক্ষমা চেয়েছে? ওরা কটা পশুর প্রাণ বাঁচিয়েছে?”
সেলিম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার ছেলে কোনো অপরাধই করেনি। তিনি বলেন, ‘ও কি কোনো অপরাধ করেছেন? আপনি কি তাকে দেখেছেন করতে? আপনি কি বিষয়টি তদন্ত করেছেন? এমনকি আমরা কোনোদিন কোনো বন্দুকও ব্যবহার করিনি।’
সেলিম আরও জানান, সালমানকে ভয় দেখাতে বিষ্ণোইরা খুন করেছে বাবা সিদ্দিকীকে, একথা মানতে মোটেও রাজি নন তিনি। তিনি বলেন, ‘না, আমার মনে হয় না এর মধ্যে কোন সম্পর্ক আছে। এর সঙ্গে বাবা সিদ্দিকীর কী সম্পর্ক? এরকম যে কোনো গল্প আমরা বানাতে পারি। তুমি আমাকে সালাম দাওনি, আমি তোমাকে মেরে ফেলব।’
এসময় সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী একজন জিজ্ঞাসা করেন যে, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের হাত থেকে সালমানকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন বাবা সিদ্দিকী, তাই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে একটি দাবি সামনে এসেছে। তাতে সেলিম বলেন যে, পুলিশও সালমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করছে। তার কথায়, ‘তাতে কি? সবাই তাকে বাঁচাতে চায়… তাই বলে, যে কেউ যে কোন সময় তাদের জীবন হারাতে পারে?’
গত ১২ অক্টোবর সালমানের ঘনিষ্ঠ মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকীকে গুলি করে খুন করা হয়। খুনের দায় নেয় বিষ্ণোই গ্যাং। যারপরেই আরও জোরদার করা হয়েছে সালমানের নিরাপত্তা বেষ্টনী। –বলিউড লাইফ









