ফেনীর পুরাতন কারাগারকে ফেনী কারাগার-২ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা আর রংয়ের কাজ। এদিক সেদিক থেকে টেনেটুনে কারা অভ্যন্তরে কক্ষগুলোতে বৈদ্যুতিক পাখা ও লাইটও লাগানো শেষের পথে।
আগামী ১ নভেম্বর ফেনীতে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় কারাগারের কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ জেলা কারাগার থেকে বিশেষ বন্দিদের ফেনী কারাগার-২ এ স্থানান্তর করা হবে। এ সংখ্যা অন্তত দুইশ। এরমধ্যে ফেনী কারাগার-১ থেকে স্থানান্তর করা হবে মাত্র ২০ জনকে। বন্দি স্থানান্তর প্রক্রিয়া তদারকি করতে চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি প্রিজন ভ্যান ফেনীতে অবস্থান করবে।
ফেনী কারাগার-২ এর জেল সুপার মো. দিদারুল আলম জানান, কারাগারকে অপরাধীদের জন্য সংশোধনাগার হিসেবে বাস্তবে রূপ দিতে চায় রাষ্ট্র। তারই অংশ হিসেবে দেশের চার জেলায় (ফেনী, পিরোজপুর, মাদারীপুর ও কিশোরগঞ্জ) চারটি পৃথক কারাগার প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে৷ তার অংশ হিসেবে ফেনীতে ১ নভেম্বর দ্বিতীয় কারাগারের যাত্রা শুরু হচ্ছে। অন্য তিনটির কাজ এখনও শেষ না হওয়ায় সেগুলো এখনই চালু হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ জেলার কারাগারে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের ফেনী কারাগার-২ এ স্থানান্তর করা হবে।
প্রাথমিকভাবে ৮ জেলার কারাগার থেকে ফেনীতে বন্দি স্থানান্তরকালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফেনী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সহযোগিতা করবে বলে জানান, ফেনী কারাগার-২ এর জেল সুপার মো. দিদারুল আলম। দ্বিতীয় কারাগার চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এতে করে মানবেতর জীবনযাপন থেকে রেহাই পাবে বন্দিরা। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধের আসামীদের মধ্যে মেলবন্ধনের সুযোগ হ্রাস পাবে। এতে করে অপরাধ প্রবণতা কমে মুক্তি পাওয়া বন্দিরা কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পাবেন।
ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক সমন্বয় থাকলে মাদক কারবারিদের সংশোধনার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
উল্লেখ্য, ১৯১৫ সালে শহরের মাস্টার পাড়ায় মাত্র দেড় একর জায়গার ওপর প্রথমে উপ-কারাগার (সাব-জেল) হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যার বন্দিধারণ ক্ষমতা ছিল দুজন নারী ও ১৭০ জন পুরুষ মিলে মোট ১৭২ জন। ১৯৯৮ সালে উপ-কারাগার থেকে এটি জেলা কারাগারে উন্নীত হয়। তবে জেলা কারাগারে উন্নীত হলেও কোনও সুযোগ-সুবিধা ছিল না সেখানে। শত বছরের পুরনো অবকাঠামো আর অপ্রতুল জায়গায় ধারণ ক্ষমতার তিন-চারগুণ বেশি বন্দি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়তই ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। গাদাগাদি করে শোয়া, থাকা-খাওয়া, গোসলসহ নানা সমস্যায় বন্দিদের দুর্ভোগের শেষ ছিলো না।
১৯৯৬ সালে শহরতলীর কাজিরবাগ মৌজায় সাড়ে ৭ একর জায়গায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন জেলা কারাগারের জন্য ২৮টি ভবন নির্মাণ শুরু হয়। আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এ কারাগারে ২টি ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা, ২.৫০ কেভি.এ বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, ১০ কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ, ২০ কেভি জেনারেটর ছাড়াও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, অভ্যর্থনা মঞ্চ, প্যারেড গ্রাউন্ড, আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার রয়েছে। এ কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা রয়েছে ৩৫০ জন।
২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি শত বছর পর ফেনী জেলা কারাগার নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়। সেদিনই ৮ শতাধিক বন্দিকে পুরাতন কারাগার থেকে শহরতলীর রানীরহাটে নবনির্মিত জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।









