সরকার পতনের পর থেকে রীতিমত স্থবির বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম। গেল মাসে নতুন মহাপরিচালক যোগদানের পর গেল সপ্তাহে শিল্পকলায় যোগ দিয়েছেন নতুন ছয় পরিচালক। তারই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন ও মহড়া কক্ষ স্বল্প পরিসরে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হবে বাংলাদেশ থিয়েটারের নাটক ‘সী মোরগ’। মূলত এই মঞ্চায়নের মধ্য দিয়েই দ্বার খুলছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে শিল্পকলা একাডেমিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই কিছু নির্দেশনা অনুসরণ সাপেক্ষে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে মঞ্চায়ন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, নাট্য নির্দেশক ও শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ- এর সক্রিয় ভূমিকা এবং তত্বাবধানের মাধ্যমে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন।
এ বিষয়ে মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রাষ্ট্রের এক ইতিবাচক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে অনিচ্ছাকৃত বিরতির পর নতুন করে নাট্যশিল্পচর্চার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। এই শুভক্ষণে অংশীজনদের সবাইকে আমি অভিবাদন ও শুভেচ্ছায় সিক্ত করতে চাই। পাশাপাশি, আহ্বান রাখছি যে, এমন শিল্পচর্চা করুন যাতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে হাজার মালভূমির বৈচিত্র্যে ভরপুর এক সৃষ্টিশীল সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক জনপদরূপে আমরা কল্পনা করতে পারি। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪-এর শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যূত্থানের ভেতর দিয়ে যে বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক আত্মার স্বর আমরা শুনতে পাই, তার ভিত্তিতে, একক কোনো দলীয় বয়ানের বিপরীতে, ভয়হীন প্রশ্ন জাগানিয়া মুক্ত চিন্তা ও কল্পনার সাংস্কৃতিক চর্চাকে বেগবান করুন। বহু বৈচিত্র্যময় শিল্পকলা চর্চার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিভিল সোসাইটি গড়ে তুলুন যারা সকল প্রকার কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে সকল সময়ে শিল্পের ভাষায় আপামর জনগণের হৃৎস্পন্দনকে তুলে ধরবে”
বাংলাদেশ থিয়েটারের ৬ষ্ঠ প্রযোজনা “সী মোরগ” দর্শক নন্দিত এক ব্যতিক্রমী হাসির নাটক। এটি রচনা করেছেন আসাদুল্লাহ ফারাজী এবং নির্দেশনা দিয়েছেন হুমায়ূন কবীর। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে আরণ্যকের “ময়ুর সিংহাসন”।









