ইন্দোনেশিয়ার সিদোয়ারজো শহরে একটি ইসলামিক আবাসিক স্কুল ধসে পড়ে ৫ জন শিক্ষার্থী নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৫৯ জন আটকে আছেন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুইতলা ভবনটি ধসে পড়ে। তখন ভবনের ভেতরে শত শত শিক্ষার্থী ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই কিশোর বয়সী ছেলে। উদ্ধারকর্মীরা এ পর্যন্ত ১৩ জনকে জীবিত অবস্থায় টেনে তুলতে সক্ষম হলেও, তাদের মধ্যে দুজন পরে হাসপাতালে মারা যান। ভবনের অস্থিতিশীল কাঠামোর কারণে উদ্ধার তৎপরতা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার ২ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা (বিএনবিপি) জানায়, থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করেও ধ্বংসস্তূপের নিচে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব শনাক্ত করা যায়নি।
সংস্থার প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুযারিয়ান্তো বলেন,গতরাতে আমরা এলাকা একেবারে নীরব করে দেই, যাতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো জীবনচিহ্ন ধরা যায়। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার অভিযান এখন পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করছে, যেখানে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কংক্রিটের স্ল্যাব সরানো হবে। তবে এর আগে ভবন আরও ধসে পড়ার আশঙ্কায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
উদ্ধারকর্মীরা বুধবার পর্যন্ত দাবি করেছিলেন যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কান্না ও চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। এ অবস্থায় বিদ্যালয় চত্বরে জড়ো হওয়া পরিবারগুলো এখনো আশার আলো ধরে রেখেছেন।
১৭ বছরের নিখোঁজ শিক্ষার্থীর ভাই মৌলানা বায়ু রিজকি প্রতমা বলেন, আমি সেরা খবরের প্রত্যাশা করছি, যেন আমার ভাই বেঁচে থাকে। চার দিন ধরে তাকে নিচে পড়ে আছে ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে।
অন্যদিকে আহমাদ ইখসান (৫২) বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমার ছেলে এখনো জীবিত।
বিএনবিপি বুধবার জানায়, অন্তত ৫৯ জন এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। তবে সংস্থাটি বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ে এসব তথ্য প্রায়ই পরস্পরবিরোধী হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটি ধসে পড়ার সময় নির্মাণকাজ চলছিল এবং এর সঙ্গে আরও দুটি তলা যোগ করা হচ্ছিল। পরে তদন্তে জানা যায়, দুর্বল ভিত্তি এত ভার বহন করার উপযুক্ত ছিল না।
সিদোয়ারজো শহরের রিজেন্ট বলেছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তলা নির্মাণের জন্য কোনো অনুমতিপত্র নেয়নি।









