প্রায় চার বছর সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকার পর অবশেষে দেশে মুক্তির অনুমতি পেতে যাচ্ছে ২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’।
শনিবার (২১ জানুয়ারি) সেন্সর বোর্ডের আপিল কমিটির শুনানির পর এমন আশাবাদই ব্যক্ত করলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি জানিয়েছেন, ‘আপনাদের মতো আমিও পত্রিকা মারফত জেনেছি, আপিল বোর্ড শনিবার বিকেল ছবিটা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
যদিও সেন্সর বোর্ডের তরফে এখনও ছাড়পত্র মেলেনি কিংবা পাননি আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি। তবে নির্মাতা বলছেন,‘সেন্সর বোর্ড থেকে হয়তো ছোট কিছু অবজারভেশন জানাবেন, যেটা ডিটেইল এখানে আলোচনা করতে চাচ্ছি না।’
জঙ্গি হামলার একই ঘটনা নিয়ে বলিউডে নির্মিত হয়েছে ‘ফারাজ’ নামের একটি ছবি। এটি নির্মাণ করেছেন হংসল মেহতা। ছবিটি ৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এই ছবির আগেই ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি দিতে বদ্ধপরিকর ফারুকী। আগেও এ বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ এর এই নির্মাতা।
শনিবারে আপিল কমিটির শুনানিরও পরেও ‘ফারাজ’ এর আগেই ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফারুকী লিখেছেন,‘আমরা আশা করি উনারা দ্রুতই আমাদের এই বিষয়ে চিঠি দিবেন, যাতে আগামী শুক্রবার বা তার পরের শুক্রবার ছবিটা মুক্তি পায়। মোট কথা ফারাজের সাথে বা আগেই ছবিটা মুক্তির ব্যবস্থা করবো ইনশাল্লাহ।’
দীর্ঘদিন ‘শনিবার বিকেল’ আটকে রাখায় প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরা। ছবিটি নিয়ে আশার আলো দেখায় এদিন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান ফারুকী। ফেসবুকে তিনি লেখেন,‘গত চারবছর ধরে শনিবার বিকেল নিয়ে যখন স্ট্রাগল করতেছিলাম, তখন নিজেরে অদরকারী ভাবার সাথে যে অনুভুতিটা আমাকে গ্রাস করতো সেটা হলো একাকীত্ব। কিন্তু এই কয় মাস শনিবার বিকেলের মুক্তির দাবিতে ফিল্ম অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের কলিগ, আমাদের দর্শক ভাই-বোন, এবং সমাজের সব স্তরের মানুষ যেভাবে কণ্ঠ উঁচু করেছেন, তাতে আমি আর একা বোধ করি নাই। মনে হয়েছে আমি অনেকের সাথে আছি, মাঝে আছি। আপনাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ছবিটার মুক্তির জন্য নেপথ্যে যে ভাই-বোনেরা কাজ করেছেন তাদের সবাইকে সালাম। পত্র-পত্রিকা, ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’
সিনেমা নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করতেও ভুললেন ফারুকী। বললেন ‘শেষে একটা কথা বলতে চাই, আমার মতো এই অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে যেনো কোনো ফিল্মমেকার না যায়। আমরা বাঁচি আর কয় দিন। কাজের সময় খুব কম। এইভাবে তা অপচয়ের কোনো মানে নাই।’
‘চলচ্চিত্রটি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে’ –এমন আশঙ্কায় ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি আটকে দেয় সেন্সর বোর্ড। বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের বিপরীতে সেই সময়েই আপিল করে চলচ্চিত্রটির অন্যতম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। আপিলের পর ছাড়পত্রের বিষয়ে দীর্ঘ দিনেও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি সেন্সর বোর্ড।
বাংলাদেশ-ভারত-জার্মান এই ত্রিদেশীয় যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘শনিবার বিকেল’। বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজি ভাষাতেও হয়েছে ডাবিং। টানা ১৫ দিন মহড়ায় মাত্র ৭ দিনেই শেষ হয়েছে ছবির শুটিং।
ছবিতে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, পরমব্রত, তিশা এবং ফিলিস্তিনি অভিনেতা ইয়াদ হুরানি।







