ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর প্রথম দুই টি-টুয়েন্টি হেরে সিরিজ হারার পথে ছিল ইংল্যান্ড। সেখান থেকে দারুণভাবে ফিরে এসেছে ছোট সংস্করণের চ্যাম্পিয়ন দলটি। পরপর দুম্যাচ জিতে থ্রি-লায়ন্সদের সিরিজে সমতায় আনার মূল নায়ক ফর্মের তুঙ্গে থাকা ফিল সল্ট। বিস্ময়করভাবে আইপিএল নিলামে তাকে কোনো দলই কিনতে আগ্রহী হয়নি।
গ্রেনাডায় তৃতীয় ম্যাচে ক্যারিবীয়দের দেয়া ২২৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় বাইশ গজে ঝড় তোলেন ইংলিশ ওপেনার। ৫৬ বলে ৪ চার ও ৯ ছক্কায় ১৯৪.৬৪ স্ট্রাইকরেটে ১০৯ রানে অপরাজিত থেকে জয়ের বন্দরে পৌঁছান। ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে চতুর্থ ম্যাচে গড়েছেন অনন্য রেকর্ডও। শতক হাঁকিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে টানা দুই সেঞ্চুরি পাওয়া ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হয়েছেন। ৫৭ বলে ৭ চার ও ১০ ছক্কায় ১১৯ রানের ইনিংসটি ইংল্যান্ড ব্যাটারদের মধ্যে টি-টুয়েন্টিতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চও।
ব্যাট হাতে রানের ফুলঝুরি ছোটালেও আইপিএলে দল না পাওয়ার ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন ২৭ বর্ষী সল্ট। বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য বিভ্রান্তিকর এক সকাল ছিল। আশা করেছিলাম আমাকে নেয়া হবে। গতবছর খেলেছিলাম এবং ভালো পারফর্ম করেছি। তবে এমন ঘটতেই পারে। দল না পাওয়াটা নিলামের লটারির অংশ। খসড়া প্রক্রিয়াতেও এমন ঘটে থাকে।’
আইপিএলে সবশেষ আসরে প্রথমবার খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন সল্ট। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ৯ ম্যাচে ২৭.২৫ গড়ে ১৬৩.৯১ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ২১৮ রান। টি-টুয়েন্টিতে কার্যকরী এমন পরিসংখ্যান থাকার পরও এক কোটি ৫০ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্যে থাকা খেলোয়াড়কে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই টানেনি।
বিষয়টিকে অবশ্য ইংলিশ ব্যাটার স্বাভাবিকভাবে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তার ভাষ্য, ‘আমি কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলাম, তবে এমন ঘটতেই পারে। আইপিএলের নিলামের তালিকায় কোনো খারাপ ক্রিকেটার নেই।’
অবিক্রীত থাকার সংবাদটি পাওয়ার পর ক্যারিবীয় বোলারদের বিপক্ষে অনুপ্রাণিত করেছিল কিনা- এমন প্রশ্নে সল্ট জানান, ‘ইনিংসটা সম্ভবত কিছুটা অবচেতনভাবে খেলেছিলাম। আমি এখানে ক্রিকেট খেলতে পেরে কতটা ভাগ্যবান, সেই ব্যাপারে সচেতন।’
‘আমি ভালো ক্রিকেট খেলছি। যা করতে এসেছি, সেটাই করছি। তার চেয়েও বড় কথা, ছেলেরা সত্যিই একত্রিত হয়ে দেখিয়েছে, আমরা কতটা ভালো দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব ভালো দল। আমরা পরপর ম্যাচ জিততে কয়েকদিনের মধ্যে সিরিজের ফল নির্ধারণের বিরুদ্ধে খেলছি, আমি হতবাক।’
ইংল্যান্ড জার্সিতে বড় ইনিংস খেলতে না পারায় সল্ট হতাশায় ভুগছিলেন। তবে মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে হতাশাকে মাটি চাপা দিয়েছেন। নিজের কাজটা ঠিকঠাক করাই সাফল্যের কারণ বলে জানালেন।
‘আমি অফসাইডে ছক্কা মারার জন্য বিশেষভাবে কাজ করেছি। সবসময়ই লেগ সাইডের উপর দিয়ে মারতে পারতাম। এটা এমন একটা ক্ষেত্র যেখানে আমি অনেকদিন ধরে কাজ করছি। তাই এটা কাজ করছে দেখে ভালো লাগছে।’








