নিজ বাড়িতে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছিলেন সাইফ আলী খান। থাকতে হয়েছে হাসপাতালেও। এখনো শরীরে সেই ছুরিকাঘাতের চিহ্ন। এমন অবস্থাতেও সাইফ আলী খান হামলাকারীর প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন!
শরীরে সেই ঘটনার ক্ষত থাকলেও বর্তমানে পুরোপুরি সুস্থ আছেন সাইফ। যাচ্ছেন নিজের সিনেমার প্রমোশনেও। এরইমধ্যে তাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে প্রশ্ন করা হয়, সামনে এই ঘটনা তার জীবনে প্রভাব ফেলবে কিনা!
এমন প্রশ্নে অভিনেতা মনে করেন, এই ঘটনা তার জীবন পরিবর্তন করবে না। কারণ তিনি কোনো হুমকির মধ্যে আছেন, এটা মনে করছেন না। ওই হামলার ঘটনাটি ছিলো স্রেফ একজন হতাশাগ্রস্ত মানুষের, যার উদ্দেশ্যই ছিলো সামান্য চুরি!
এ সময় ওই আক্রমণকারীর প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে এই অভিনেতা আরো বলেন, ‘আমার কিছু হয়নি, কিছু হবেও না। কিন্তু ওই গরীব মানুষটার জীবন নষ্ট হয়ে গেল।’
দিল্লি টাইমস-কে দেয়া সেই সাক্ষাৎকারে যখন সাইফকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ওই ঘটনার পর কি তিনি বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবেন বা অস্ত্র রাখবেন? তখন তিনি বলেন, “কিছুই পরিবর্তন হবে না। দেখুন, যদি এসব করা শুরু করি… কারণ আমি মনে করি না যে, আমি কোনো হুমকির মধ্যে আছি। এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা ছিল না, বরং একটি ব্যর্থ ডাকাতির চেষ্টা। ওই গরীব লোকের জীবন আমার থেকেও বেশি বিপর্যস্ত।”
সাইফ আরও বলেন, “আমি কখনো নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিনি। অনেকে বলছে, ‘আরও নিরাপত্তা রাখা উচিত।’ কিন্তু আমি কখনো নিরাপত্তায় বিশ্বাসী ছিলাম না। আমি চাই না সবসময় আমার আশেপাশে তিন-চারজন নিরাপত্তারক্ষী থাকুক। এটি আমার জন্য দুঃস্বপ্নের মতো হবে। আমি এখনো চাই না, কারণ আমি মনে করি না যে, এটি আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা ছিল। আমরা কেউ কোনো হুমকির মধ্যে নেই। এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা।”
তিনি মনে করেন না যে এটি কোনো ষড়যন্ত্র ছিল এবং মুম্বাই পুলিশের তদন্তেরও প্রশংসা করেন। সাইফ বলেন,“আমি মুম্বাইতে নিজেকে খুব নিরাপদ মনে করি। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ শহর। তবে হ্যাঁ, এমন ঘটনা মাঝেমধ্যে ঘটে। নিউ ইয়র্ক, লন্ডন বা প্যারিসেও এমন হয়। দরজা-জানালা ঠিকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। ভাগ্যের ওপর নির্ভর করা যায় না। আপনি সবকিছু খোলা রেখে দিতে পারেন না। এটি তো সুইজারল্যান্ডের কোনো গ্রাম নয়!”
যদি তিনি ওই পরিস্থিতিতে ভিন্ন কিছু করার সুযোগ পেতেন, তাহলে কী করতেন? এ প্রশ্নের জবাবে সাইফ বলেন, “আমি প্রথমে লাইট জ্বালিয়ে বলতাম, ‘তুমি কি জানো আমি কে?’ আমি নিশ্চিত সে বলত, ‘ওহ শিট! আমি ভুল বাড়িতে ঢুকে পড়েছি।’ আমি বলতাম, ‘ঠিক আছে, ছুরি ফেলে দাও, আমরা এটা নিয়ে কথা বলি।’ আমি যুক্তি দিয়ে বিষয়টি সামলানোর চেষ্টা করতাম। তবে তখন রাগ, আতঙ্ক ও আত্মরক্ষার মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় খুব দ্রুতই সব ঘটে গেছে। পুরো ব্যাপারটা ছিল সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক।” – নিউজ এইটিন









