সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি ক্রমাগত আমাদের ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থাকে উপহাস করে চলেছে বলে এক রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে কনডেম সেলে বন্দী রাখা যাবে না বলে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণ বিষয়টি উঠে এসেছে।
যেখানে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘সাগর-রুনি হত্যা মামলার (দুই খ্যাতিমান তরুণ সাংবাদিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড) ঘটনার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং এটি এখনো বিচারের আলো দেখতে পারেনি। দুর্ভাগ্যবশত, এই মামলাটি ক্রমাগত আমাদের ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থাকে উপহাস করে চলেছে এবং অপূরণীয় পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।’

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন।তাদের একমাত্র ছেলে মাহির সারোয়ার মেঘ (৫) সে সময় বাড়িতে ছিল। হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা থানায় মামলা করেন। সে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আগামী ৪ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে ঢাকার আদালত। এ নিয়ে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ১১১ বার সময় বাড়ানো হলো।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে কনডেম সেলে বন্দী রাখা যাবে না বলে গত ১৩ মে রায় দেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তবে পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়টি রাষ্ট্র পক্ষের আবেদনে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত।









