বাংলাদেশ নারী ফুটবলের সাফল্য গাঁথা বরাবরই দৃশ্যমান। কিন্তু টানা দুবার সাফজয়ীদের ভেতরের কথা কতটা জানা সবার? জানার আগ্রহটাও বেশি থাকে তাই। নিজেদের মধ্যকার অজানা সেসব গল্প বলেছেন চ্যাম্পিয়ন মেয়েরা। হাসি, আড্ডা, মজায় জানিয়েছেন- দলের মধ্যে সবচেয়ে দুষ্টু ও সেরা টিকটকারের নামও!
মঙ্গলবার সাফজয়ীদের নিয়ে আয়োজিত চ্যানেল আই’র বিশেষ ‘অভিনন্দন’ অনুষ্ঠান শেষে আড্ডায় মেতেছিলেন সাবিনা-সানজিদারা। সেখানে জানান, দলের ভেতর দুষ্টু কোকিল হিসেবে খ্যাত অধিনায়ক সাবিনা খাতুনই। আর সেরা টিকটকার মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা।
শাহেদা আক্তার রিপা সবার আগে সাবিনাকে ‘দুষ্টু কোকিল’ আখ্যা দেন। অবশ্য ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। বললেন, ‘যখন আমরা একটা সিরিয়াস কথা বলতেছি, তখন তিনি হুট করেই একটা মজার কথা বলে দেন। সবার মনটাই তখন খুশি হয়ে যায়। সবসময় তিনি মজা করেন। সেই মূহুর্তে মারিয়া মান্দা সবার আগে হেসে মজাটা আরও বাড়িয়ে দেন।’
অবশ্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মিডিয়া এক্সিকিউটিভ খালিদ মাহমুদ নওমি জানালেন দলের মধ্যে সবচেয়ে ‘দুষ্টু’ মাসুরা পারভীন। মাসুরাও অকপটে স্বীকার করলেন সেটা। বললেন, ‘দুষ্টামি করলে সবার মুখে মুখে থাকা যায়, সে কারণেই। আমি অলওয়েজ ডিফেন্সে খেলিতো, সামনে যেতে পারি না। এ কারণেই সবসময় সামনে থাকি।’ বলেই হাসি!
মেয়েদের মধ্যে ভালো গান গাইতে পারেন সানজিদা, শিউলি, মধু (শাহেদা)। অধিনায়ক সাবিনা ফাঁস করে দিলেন সেটা। তবে দলের বাকিরা একযোগে বলেছেন অধিনায়কই সবচেয়ে ভালো গান গাইতে পারেন। সাবিনা অবশ্য তা অস্বীকার করে বললেন, ‘আমি গান গাইতে পারি না।’
সাবিনা জানালেন, ভালো রান্না করতে পারেন তিনি। মায়ের কাছ থেকে হাঁসের মাংস রান্নাটা ভালোভাবেই আয়ত্বে নিয়েছেন। সতীর্থদের হাঁসের মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে খাইয়েছেন।
দলের মধ্যে সেরা টিকটকার কে, এমন প্রশ্নে নওমি বললেন মাসুরাই সেরা। তবে অধিনায়ক সাবিনাসহ দলের অন্যরা বললেন মারিয়া মান্দার নাম। ব্যাখ্যা দিয়ে সাবিনা বললেন, ‘আমার মনখারাপ, আপনি দশ মিনিট পরে দেখলেন আমি স্বাভাবিকভাবে টিকটক করতেছি। কোনো স্যাড টিকটক না, হ্যাপি টিকটক। আর সে হচ্ছে আমাদের মারিয়া।’ মারিয়া অবশ্য বেশিরভাগ নাচের ভিডিও পোস্ট করে থাকেন টিকটকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী ফুটবলারদের সকলেই বেশ সক্রিয় ও জনপ্রিয়। ইদানীং টিকটক করা নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় মেয়েদের। এমন কমেন্টকারীদের উদ্দেশ্যে মাসুরা বললেন, ‘আমাদের যারা সবসময় ফলো করে, তারা সময় আমাদের ভালো ভালো কমেন্ট করেন। এখন হচ্ছে, কিছু নতুন নতুন অতিথি এসেছে। তারা কমেন্ট করে- সারাদিন টিকটক করে, সারাদিন টিকটক করে।’
মাসুরা তাদের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে বললেন, ‘তারাও কি সারাদিন টিকটক দেখে? না হলে তারা সারাদিন আমাদের টিকটকে কীভাবে দেখে। আমরা যদি সারাদিন টিকটক করি তাহলে আমাদের চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটা কীভাবে আসল?’









