প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার নেতৃত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পাশাপাশি এ অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। মুরমানস্কে আর্কটিক ফোরামে দেয়া ভাষণে তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি দুটি নির্দিষ্ট দেশের বিষয়, এর সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। পুতিনের এমন মন্তব্যের মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের পরও রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
বিবিসি জানিয়েছে, রাশিয়া আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অর্থনৈতিক সহযোগিতার কথা বিবেচনা করছে। রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান কিরিল দিমিত্রিভ জানান, তারা আর্কটিকে যৌথ বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত, বিশেষ করে রসদ ও অন্যান্য খাতে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান না হলে এগোনো কঠিন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মতো আমেরিকান কর্মকর্তা রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত বিবাদিত গণভোটের ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রত্যাখ্যান করেছে। রাশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিকোলাই পাত্রুশেভ মনে করেন, আমেরিকায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে।
মুরমানস্কের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আর্কটিক উন্নয়ন ও সহযোগিতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ রাশিয়ার শক্তির প্রতি আস্থা রাখেন, আবার কেউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে “বন্ধুত্বপূর্ণ” দেশ হিসেবে দেখতে নারাজ।
আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া-আমেরিকা সহযোগিতার সম্ভাবনা থাকলেও ইউক্রেন সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এ পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুতিনের সরকার আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটাতে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের দিকে ঝুঁকছে, কিন্তু পশ্চিমা নীতিতে আমূল পরিবর্তন না হলে তা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।









