রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন যে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে সাম্প্রতিক আলোচনা খুবই কার্যকর হলেও মূল রাজনৈতিক ও ভূখণ্ডগত প্রশ্নে কোনো অগ্রগতি হয়নি। রাশিয়ার সর্বোচ্চ দাবি সম্পূর্ণ ডনবাস অঞ্চল দখল ও আন্তর্জাতিকভাবে তার নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি এখনও অপরিবর্তিত রেখেই তিনি কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার ৪ ডিসেম্বর আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
নয়াদিল্লি সফরের আগে ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন স্পষ্ট জানান, ডনবাসের (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক) ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে বলপ্রয়োগে দখল অথবা ইউক্রেনীয় বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার-এই দুই পথের যেকোনো একটির মাধ্যমে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের উদ্ধৃতিতে পুতিন বলেন, হয় আমরা বলপ্রয়োগে এই অঞ্চলগুলো মুক্ত করব, অথবা ইউক্রেনীয় সেনারা সরে গিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে তাঁর প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার মস্কোতে আলোচনার সময় পুতিনের যুদ্ধ শেষ করার আগ্রহ অনুভব করেছিলেন। তবে পুতিনের বক্তব্য সেই ধারণাকে কার্যত অস্বীকার করছে।
মঙ্গলবার মস্কোতে পাঁচ ঘণ্টার আলোচনার পর উইটকফ-কুশনার দল বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডায় ইউক্রেনীয় প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার বলেছেন যে তিনি কোন অবস্থাতেই ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে পারেন না। সংবিধানও অঞ্চল হস্তান্তরকে নিষিদ্ধ করে। তাঁর মতে, আগ্রাসনের মাধ্যমে রাশিয়াকে পুরস্কৃত করা হলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকট আরও বাড়বে।
শান্তি প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ: ২৮-দফা পরিকল্পনা আবারও আলোচনায়
যুদ্ধ থামাতে সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো হিসেবে ট্রাম্পের যে ২৮-দফা পরিকল্পনা আলোচিত হচ্ছে, তা আবারও সামনে এসেছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, এই পরিকল্পনাই এখনও বৈধ এবং এর চারটি পৃথক বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
মস্কোর মতে, মূল রাশিয়ান অবস্থান অপরিবর্তিত। রাশিয়া চায় পুরো ডনবাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর আকার সীমিতকরণ, ন্যাটো সদস্যপদ ত্যাগ ও যুদ্ধোত্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন-রাশিয়া চুক্তি।
উল্লেখ্য, পরিকল্পনার প্রথম খসড়া ইউক্রেন কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং জেনেভা আলোচনায় তা সংকুচিত হয়ে ১৯ দফায় নেমে আসে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া তার লাল রেখা থেকে সরে যাচ্ছে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে আলোচনার এক ধরনের পক্ষ বদলানো রাউন্ড-রবিন প্রক্রিয়া চলছে—যেখানে প্রতিটি পক্ষ দায় চাপাচ্ছে অন্য পক্ষের ওপর।
ইউক্রেন সরকার এসব আলোচনাকে মূল্যবান মনে করলেও শর্ত দিচ্ছে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখা, সুষম মধ্যস্থতা নিশ্চিত করা।
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের ১৯.২ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপও অন্তর্ভুক্ত।









