যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য ঘোষিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে রাশিয়া। তবে এর ভাষা ও অবস্থান নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ৩৩ পৃষ্ঠার এই নথি প্রকাশের পর থেকেই ওয়াশিংটন, মস্কো এবং ইউরোপজুড়ে কৌশলটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববার ৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, কৌশলটি রাশিয়ার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মস্কো এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তিনি আরও জানান, নথিটি বিশদভাবে পর্যালোচনা করে রাশিয়া নির্দিষ্ট অবস্থান জানাবে।
নতুন নিরাপত্তা কৌশলে বিদেশি প্রভাব প্রতিরোধ, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, এবং ইউরোপীয় সেন্সরশিপবিরোধী অবস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের বেশ কিছু দেশের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা ভবিষ্যতে টিকে থাকবে কি না সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। কিছু দেশে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলের উত্থানকে নথিতে ইতিবাচক প্রবণতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কৌশলপত্রে রাশিয়া সম্পর্কে তুলনামূলক নরম ভাষার ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তারা মনে করে, এতে ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে মস্কোর ওপর পশ্চিমাদের চাপ দুর্বল হতে পারে। একইসঙ্গে নথিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক প্রচেষ্টা ব্যাহত করতে ইইউ কিছু ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে; তবে রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে ইউরোপের অর্থনীতিও উপকৃত হতে পারে।
প্রতিক্রিয়ায় জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভেদেফুল প্রশ্ন তোলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সমাজব্যবস্থার ধরনকে নিরাপত্তা কৌশলের অংশ করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কতটা যৌক্তিক, বিশেষ করে জার্মানিকে লক্ষ্য করে এসব বক্তব্য দেওয়ার প্রেক্ষাপটে।এদিকে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতম মিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুই পোল্যান্ডের শত্রু। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন নতুন কৌশলের প্রভাব নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এই কৌশল নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বলছেন, এই নথি দেশের বৈদেশিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।









