দুর্গাপূজা উপলক্ষে গুজবকে চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, দুষ্কৃতচক্র গুজবের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। এজন্য গুজবের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আজ বুধবার রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
এ সময় র্যাব মহাপরিচালক বলেন, পূজা উপলক্ষে ছোটখাটো চ্যালেঞ্জ থাকে। এর মধ্যে গুজব একটি চ্যালেঞ্জ। গুজবের মাধ্যমে দুষ্কৃতচক্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। র্যাবের সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক সাইবার ওয়ার্ল্ড মনিটরিং করছে। গুজবের বিষয়ে র্যাবের কঠোর অবস্থান থাকবে। যাতে কোনো গুজব দুর্গাপূজার আয়োজন বিঘ্ন ঘটাতে না পারে। এ ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সচেতন রয়েছি।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১ অক্টোবর থেকেই র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এবার পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও কোস্টগার্ড ছাড়াও বিশেষভাবে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে। আমরা আশা করি নির্বিঘ্নে, সুন্দরভাবে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই পূজা উদযাপন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবো।
র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ও র্যাব হেডকোয়ার্টারের কন্ট্রোল রুম থেকে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ মনিটরিং করা হচ্ছে। অন্যবারের চেয়ে এবার সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হবে।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে জানিয়ে র্যাব ডিজি শহিদুর রহমান বলেন: সরকারের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ, আমাদের জন্যও চ্যালেঞ্জ। র্যাব সেই চ্যালেঞ্জ মাথা পেতে নিচ্ছে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, দেশের ১৭ কোটি মানুষ আমাদের পাশে আছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো অসাধুচক্র, দুষ্কৃতকারী কোনোভাবে সুযোগ পাবে না।
এছাড়া র্যাব ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিকভাবে পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় স্যুইপিং কার্যক্রমে অংশ নেবে বলে জানান তিনি।
‘আলোকরশ্মি আমরা দেখতে পাচ্ছি’
রাজধানীর গুলশান-বনানী পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি জে এল ভৌমিক বলেন, র্যাব মহাপরিচালক যে আশার বাণী শোনালেন, তার আলোকরশ্মি আমরা দেখতে পাচ্ছি। অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে শুধু এখানে নয়, সারা বাংলাদেশে ৩২ হাজারের বেশি স্থানে পূজা হচ্ছে এবার। প্রতিটি মণ্ডপে র্যাবের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ বছর কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই আমরা মায়ের পূজা করতে পারব।
তিনি বলেন, যদিও এর মাঝে কিছু কিছু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে গেছে। সামান্য কিছু দুষ্টু লোক আছেন যারা এসবের সুযোগ নিতে চায়। আমরা আশা করছি, তারা এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবে। আমরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে এ দেশে সবাই সমান অধিকার নিয়ে সুন্দরভাবে বসবাস করতে চাই। এ দেশে হিন্দু সম্প্রদায় সবচেয়ে ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মফস্বলে যেসব স্থানে পূজা হচ্ছে, সেখানে যেন নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায় সেদিকে দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানাই।









