বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড জেনিফার হারমোসোকে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে চুমুর ঘটনায় পদত্যাগের পরিকল্পনা করেছিলেন রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস। সিদ্ধান্ত বদলে এখন বলছেন, পদত্যাগ করবেন না। জানিয়েছেন, শেষপর্যন্ত লড়াই করার কথা।
রুবিয়ালেসের চুমু কাণ্ড নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার আরএফইএফ একটি জরুরি সভা করে। সভায় পদত্যাগ না করার বিষয়টি জানান স্পেন ফুটবলের প্রধান। বলেছেন, ‘আপনি কি মনে করেন ঘটনাটি এতটাই গুরুতর যে স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে সেরা ব্যবস্থাপনার পরও আমার সরে যাওয়া উচিত? আমি পদত্যাগ করছি না।’
‘আমি অনেক চাপের মধ্যে আছি। সম্ভবত সোমবার কেউ আমাকে সরাতে চাইবে। কিন্তু আমরা আইনের দেশে বাস করি। আমাকে অপসারণ করার জন্য একটি সম্মতিমূলক চুম্বন কি যথেষ্ট? আমি শেষপর্যন্ত লড়াই করতে চলেছি। আশা করি আইন অনুযায়ী সবকিছু হবে। যেহেতু আমাকে অপসারণ করার জন্য বড় কোনো কারণ নেই, তাই এটি ঘটবে না।’
‘সেই মুহূর্তটি আমার নিজের মেয়েকে চুম্বন করার মতো ছিল। সবাই এটি জানে এবং বোঝে। এটি পারস্পরিক সম্মতিপূর্ণ এবং উদযাপনের সময় হয়েছে। এটাই মূল বিষয়।’
“হারমোসো একটি পেনাল্টি মিস করেছিল। সব খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। সে এসে আমাকে মাটি থেকে উপরে তুলেছিল। আমরা প্রায় পড়ে যাচ্ছিলাম। পরে একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরি। আমি তাকে বলেছিলাম, ‘ভুলে যাও পেনাল্টি, তুমি অসাধারণ, তোমাকে ছাড়া আমরা বিশ্বকাপ জিততাম না।’ সে বলল- ‘তুমি দারুণ।’ আমি বললাম ‘একটা চুমু?’ এবং সে বলল- ‘হ্যাঁ’।”
‘এরপর থেকে চাপ শুরু হয়, সে প্রথমে নিরব ছিল। কিন্তু পরে তার এমন বিবৃতি, যা আমার মাথায় ঢুকছে না। এখানে ন্যায়বিচার করা হচ্ছে না। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। তারা আমাকে হত্যার চেষ্টা করছে।’
‘সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য আমাদের অবশ্যই জানতে হবে। আমি সত্য বলছি। মিথ্যা নারীবাদ ন্যায়বিচার বা সত্যের সন্ধান করে না, এটি মানুষকে পরোয়া করে না। মিথ্যা নারীবাদীরা মানুষকে ধ্বংস করে। এই লোকেরা আমাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে এবং আমি নিজেকে রক্ষা করতে যাচ্ছি। আমি সত্য জানি। সত্যই সত্য।’
রুবিয়ালেসের এমন সিদ্ধান্তের পরও অবশ্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে স্পেনের স্পোর্টস কাউন্সিল (সিএসডি)। সংস্থাটির সভাপতি ভিক্টর ফ্রাঙ্কোস এমন জানিয়েছেন।
এছাড়া ৪৬ বর্ষী আরএফইএফ সভাপতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ভুক্তভোগী জেনিফার হারমোসো এবং নারী ফুটবলারদের সংগঠন ফুটপ্রো ইউনিয়ন। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ফিফাও। স্পেনের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তাকে ‘পদত্যাগ’ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।








