নতুন বছরের শুরুতেই প্রযুক্তিপ্রেমী এবং গেমারদের জন্য বড় দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে বিশ্ব প্রযুক্তি বাজার। বাজার বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনভিডিয়ার ফ্ল্যাগশিপ গ্রাফিক্স কার্ড ‘আরটিএক্স ৫০৯০’-এর দাম ২০২৬ সালের মধ্যে ৫,০০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ লক্ষ টাকার বেশি) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। শুধুমাত্র গ্রাফিক্স কার্ড বা জিপিইউ নয়, মেমোরি চিপের এই বৈশ্বিক সংকটের কারণে উচ্চ ক্ষমতার র্যামযুক্ত ল্যাপটপ এবং স্মার্টফোনের দামও আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি, বাজার বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে তথ্যটি জানা যায়।
কেন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি?
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো মেমোরি যন্ত্রাংশ বা চিপের (যেমন: ডি-র্যাম এবং ভি-র্যাম) তীব্র সংকট এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া। এর পেছনে প্রধান দুটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে:
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে বড় বড় ডাটা সেন্টারগুলোতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি চিপের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে। চিপ নির্মাতারা এখন সাধারণ গ্রাহকদের পরিবর্তে এআই কোম্পানিগুলোর চাহিদা মেটাতেই বেশি ব্যস্ত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে একটি জিপিইউ বা গ্রাফিক্স কার্ড তৈরির মোট খরচের প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যয় হচ্ছে মেমোরি চিপের পেছনে। সরবরাহ ব্যবস্থায় এই ঘাটতির কারণেই পণ্যের খুচরা মূল্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের শুরুতে যখন ‘আরটিএক্স ৫০৯০’ বাজারে এসেছিল, তখন এর প্রারম্ভিক বাজার মূল্য ছিল ১,৯৯৯ ডলার। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৬ সালে এর দাম বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে সাধারণ গেমার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য উচ্চমানের কম্পিউটার তৈরি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
এই সংকট শুধুমাত্র গ্রাফিক্স কার্ডেই সীমাবদ্ধ নেই। উচ্চ র্যাম (হাই র্যাম) বিশিষ্ট ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোনগুলোও একই ধরনের মেমোরি মডিউল ব্যবহার করে। ফলে এগুলোর দামও ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গেম খেলার উপযুক্ত ল্যাপটপ এবং অফিশিয়াল কাজের জন্য ব্যবহৃত উচ্চ ক্ষমতার কম্পিউটার, বিশেষ করে যেগুলোতে ১৬ গিগাবাইট বা তার বেশি র্যাম রয়েছে, সেগুলোর দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ডেল, এইচপি এবং আসুসের মতো বড় কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই তাদের প্রিমিয়াম ডিভাইসের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
দামী স্মার্টফোনগুলোতে (ফ্ল্যাগশিপ মডেল) এখন প্রচুর পরিমাণে র্যাম ব্যবহৃত হয়। মেমোরি চিপের দাম বাড়ার ফলে এই ফোনগুলোর উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার সম্পূর্ণ দায়ভার শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের পকেটেই যাবে। এমনকি মাঝারি বাজেটের ফোনগুলোতেও র্যামের পরিমাণ কমিয়ে দাম ঠিক রাখার চেষ্টা করতে পারে কোম্পানিগুলো।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে জানা যায়, ২০২৬ সালটি হার্ডওয়্যার বাজারের জন্য একটি কঠিন বছর হতে যাচ্ছে। মেমোরি চিপের এই অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সহসা দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। যারা নতুন কম্পিউটার বা ভালো মানের ডিভাইস কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এখনই কেনাকাটা করা বা বাজেট বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।









