সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিরাট কোহলি। ক্যারিয়ারে অনেক রেকর্ডের মালিক হওয়ার পাশাপাশি জিতেছেন কোটি মানুষের হৃদয়। আইপিএল ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে খেলতে থাকা ভারতীয় তারকা এখনো একটি ট্রফি জিততে পারেননি। একসময় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ছাড়ার কথা ভাবছিলেন বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।
আইপিএলের একাধিক আসরে শক্তিশালী স্কোয়াড গড়েও বেঙ্গালুরু উঁচিয়ে ধরতে পারেনি ট্রফি। ফ্রাঞ্চাইজি লিগটিতে দলটি তিনবার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পেরেছিল।
কোহলির সঙ্গে ২০২২ সালে বেঙ্গালুরু দলের কথোপকথন হয়। এ সময় একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি তার নাম নিলামে রাখার জন্য অন্যান্য দলগুলো যোগাযোগ করেছিল বলে জানান। তবে ৩৫ বর্ষী ক্রিকেটার শেষ পর্যন্ত বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি অনুগত থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
‘সত্যি কথা বলতে, দল ছাড়ার বিষয়ে আমি চিন্তা করেছিলাম। নিলামে যেন নাম রাখি, সেজন্য আমার সঙ্গে অনেকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তারপর আমি এটি সম্পর্কে ভেবেছিলাম।’
‘দিনের শেষে প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট বছর বেঁচে থাকে এবং তারপর আপনি মারা যান। বাকিদের জীবন চলতে থাকে। এমন অনেক দারুণ মানুষ আছেন যারা ট্রফি জিতেছেন। কিন্তু সেভাবে কেউ তাদের সম্বোধন করেন না। কেউ আপনাকে এভাবে বলে না যে ওহ তিনি একজন আইপিএল চ্যাম্পিয়ন।’
বেঙ্গালুরুতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে যে মানসিকতা কাজ করেছিল, সেটির দার্শনিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার সাবেক অধিনায়ক। বললেন, ‘ব্যাপারটা এমন যে আপনি যদি একজন ভালো মানুষ হন, তবে লোকেরা আপনাকে পছন্দ করে। আপনি যদি খারাপ মানুষ হন, তবে তারা আপনার কাছ থেকে দূরে থাকে। শেষ পর্যন্ত এটাই জীবন।’
চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও বেঙ্গালুরু বারবারই কোহলির উপর আস্থা রাখছে। অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তার উপর সেই বিশ্বাসটা রাখেনি। ক্রিকেট তারকা বিষয়টি নিয়ে বলেছেন সাফ কথা।
‘এই ফ্র্যাঞ্চাইজি আমাকে প্রথম তিন বছরে সুযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যা দিয়েছে, আমাকে যে পরিমাণ বিশ্বাস করেছে, সেটাই আমার থেকে যাওয়ার বিশেষ কারণ। আমি বলেছি অনেক দল আছে যারা আমাকে দলে আসার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু তারা আমাকে সমর্থন করেনি, বিশ্বাস রাখেনি। সুতরাং এখন যেহেতু আমি সফল হয়েছি, তাই আইপিএল নিয়ে কথা বলার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া আমার উচিৎ না।’
কোহলি আরও জানিয়েছেন, জীবনে বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তার স্ত্রী আনুশকা শর্মার মতামতকেই গুরুত্ব দেন। তার ভাষ্য, ‘সত্যিকার অর্থেই আমার এবং আনুশকার বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের আলোচনা নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমার জন্য অন্য কিছু বা অন্য কারোর মতামত মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয়।’







