ক্রীড়াক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পুরস্কার হাতে তুলেছেন সাবেক ক্রিকেটার রকিবুল হাসান। ম্যাচ রেফারি ও ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকা রকিবুল প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারটি গ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৯ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত ১০ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার রকিবুলের পুরস্কার প্রাপ্তির কথা জানায়। সুখবরটি পাওয়ার খানিক পরই রকিবুল চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছিলেন উচ্ছ্বসিত অনুভূতি।
‘যেকোনো সম্মান ও স্বীকৃতি মানুষকে অনেকবেশি উৎসাহিত করে, আনন্দিত করে। প্রত্যেকটা মানুষের জীবদ্দশায় ভালো কর্মকাণ্ড যখন দেশের বা সমাজের কোনো কাজে অবদান রেখে থাকে, পরবর্তীতে যখন সেটা স্বীকৃতি পায়, সেটা আনন্দের ব্যাপার।’
‘স্বাধীনতা পুরস্কার তো আমার জন্য বড় সম্মানের। এটা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনীত করেছেন। আমি তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমার ক্রিকেটে অবদান সেই পাকিস্তান আমল থেকে এখন পর্যন্ত রয়েছে। সেটার স্বীকৃতি হিসেবে উনি আমাকে এটা দিয়েছেন।’
১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। সেই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন রকিবুল। তিনবার আইসিসি ট্রফিতে খেলেছিলেন। অবসরের পর ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করেছেন। ক্রিকেটীয় চেতনা থেকেই এমন অর্জন সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাওয়ার কথা বলেছিলেন রকিবুল।
‘আমার এই সম্মানটাকে আমি ভাগাভাগি করতে চাই। আমার আগে এবং আমার সময়ের সকল ক্রিকেটারদের, খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে এবং অবশ্যই বর্তমান ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যেও এটা আমি উৎসর্গ করলাম।’
‘আমার পরিবারকেও আজকের দিনে এটা উৎসর্গ করলাম। তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা, তাদের সমর্থন আজকে আমাকে এই জায়গায় এনেছে।’
রকিবুল ১৯৫৩ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পাকিস্তান আমলে তার খেলোয়াড়ি জীবন শুরু। ওপেনিং ব্যাটার হিসেবে সুনাম কুড়ান।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে পাকিস্তান টেস্ট দলে তার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা ছিল। সুযোগ মেলেনি। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে ঢাকায় পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজে দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের রকিবুল সুযোগ পান। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের ওপেনার হিসেবে খেলেছেন।
১৯৭১ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি। ঢাকায় সেদিন শুরু হয় আন্তর্জাতিক একাদশ ও পাকিস্তান একাদশের অনানুষ্ঠানিক টেস্ট ম্যাচ। সুযোগ পেয়েছিলেন রকিবুল। ম্যাচের আগেরদিন বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামাল বন্ধু রকিবুলকে ব্যাটে জয় বাংলা লেখা স্টিকার লাগিয়ে খেলতে নামার পরামর্শ দেন।
ম্যাচের দিন সকালে জয় বাংলা স্টিকার নিয়ে পাকিস্তানের হয়ে খেলতে নামেন রকিবুল। গোটা স্টেডিয়াম জয় বাংলা স্লোগানে গর্জে ওঠে। ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দি হয় তার ব্যাটে লেখা জয় বাংলা। সেই থেকে তিনি এদেশের ক্রীড়াঙ্গন ইতিহাসে অমর কীর্তির ব্যক্তিত্ব হয়ে আছেন।








