দীর্ঘ আট বছর পরম মমতায় বায়ার্ন মিউনিখের জার্সি আগলে রেখেছিলেন রবার্ট লেভান্ডোভস্কি। এ সময়ে নিজে যেমন তারকাখ্যাতি পেয়েছেন, তেমনি বায়ার্নকে বহু শিরোপার স্বাদ পাইয়ে দিয়েছেন ৩৩ বর্ষী পোলিশ তারকা। কেটে গেছে সম্পর্কের সেই সুতো। ৪২.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ন্যু ক্যাম্পে খুঁটি গেড়েছেন লেভা।
দলবদলের নানা কথার মাঝে আনুষ্ঠানিক বিদায়টা বলা হয়ে ওঠেনি সাবেক ক্লাবের সতীর্থদের। এরমধ্যেই বার্সার জার্সি গায়ে মাঠে নেমে পড়তে হয়েছে। শেষবেলায় এসে বায়ার্নের সাথে দীর্ঘ সম্পর্ককে আর তিক্ত করতে চান না লেভা। সময় হাতে পেয়ে উড়ে গেছেন মায়ায় জড়ানো বায়ার্নে। অন্যকোনো কারণ নেই, চাওয়া কেবল প্রস্থানটা হোক সুন্দর। বায়ার্নে এসে প্রিয় সতীর্থ ও ক্লাবকর্মীদের ‘গুডবাই’ বলতে প্রশিক্ষণ মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ছুটে গেছেন।
সেখানে বিদায় শেষে বায়ার্নের বোর্ড পরিচালক হাসান সালিহামিদজিকের সাথে দেখা করার কথা লেভার। কদিন আগে বায়ার্নে থাকতে চান না বলে যেভাবে খোলামেলা কথা বলেছে, তাতে বেশ আহত হয়েছেন ক্লাব পরিচালক। লেভাকে নিয়ে সবশেষ কথায় যা স্পষ্ট।
‘আমি লেভার বিষয় মোটেও বুঝতে পারছি না। আমার বাবা আমাকে সবসময় শিখিয়েছেন, তুমি চলে গেলে, পেছন দিয়ে দরজা বন্ধ করো না। লেভা ঠিক সেটাই করার দিকে যাচ্ছে। এটা এমনকিছু যা বায়ার্ন মেনে নেয় না।’
এর আগে নানা সময়ে আর্লিং হালান্ডকে বায়ার্নে টানার ব্যাপারে কথা উঠেছিল। সেসময় ক্লাবে নিজের আধিপত্য হারানোর কথা ভেবে বায়ার্নের বিকল্প ভাবতে শুরু করেন লেভা, শোনা যাচ্ছিল এমন খবরও। বিষয়টি যে তা নয় সেটি খোলাসা করেছেন পোলিশ তারকা।
‘ঠিক কী ঘটেছে সে বিষয়ে কথা বলতে চাই না। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয় আমাকে সরানোর সিদ্ধান্তটি হালান্ডের কারণে হয়েছিল, তবে বলব, না। সে বায়ার্নে যোগ দিলে আমি কোনো সমস্যা দেখিনি। তবে শেষ পর্যন্ত এই অধ্যায়টি শেষ হয়েছে। আমি জীবনের একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করেছি।’
‘বায়ার্ন ছাড়ার আগে গত কয়েক সপ্তাহে যা ঘটেছে, তা অবশ্যই রাজনীতির অংশ ছিল। ক্লাব একটি যুক্তি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিল, যাতে তারা আমাকে অন্য ক্লাবের কাছে বিক্রি করতে পারে। কারণ তার আগে ভক্তদের বোঝানো কঠিন ছিল। শেষ পর্যন্ত আমাকে তা মেনে নিতে হয়েছিল, যদিও অনেককিছু বলা হয়নি।’









