দেশের বাজারে তেল, চালসহ বলতে গেলে এমন কোনো নিত্যপণ্য নেই, যার দাম বাড়েনি। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে। মজুদদারির মাধ্যমে গুটিকয়েক ব্যবসায়ী বাজার অস্থির করে তুলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বাজার স্থিতিশীল রাখতে অভিযান শুরু করেছে। এর মাধ্যমে ইতিবাচক ফল আসতেও শুরু করেছে।
চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনে জানা যায়, এমনই কিছু অভিযানের প্রেক্ষাপটে খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন: ৬টি ব্যবসায়ী গ্রুপ চালের বাজারে সিন্ডিকেট করছে। এরা খোলা বাজার থেকে চাল কিনে প্যাকেটে করে বিক্রি করতে পারবে না। বাজার থেকে চাল কিনে তা প্যাকেটিং করে বেশি দামে বিক্রি ঠেকাতে সার্কুলার জারির চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।
মন্ত্রী জানান: ছয়টি প্রতিষ্ঠান ব্যাগিং করে একই চাল যেটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা পড়ছে, সেটা প্যাকেটজাত করে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি করছে। একই সঙ্গে আগাম টাকা মিলারদের দিয়ে আসছে, এমনকি প্যাকেটও দিয়ে আসছে নওগাঁ, দিনাজপুর, বগুড়া ইত্যাদি স্থানে। আমরা সেগুলোও বন্ধ করেছি।
এর আগে ভরা মৌসুমেও দেশের বাজারে চালের দাম বেশি কেন? এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, কারও কারসাজির কারণে যদি দাম বেশি হয়, তাহলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হলেও মূল আলোচনায় জায়গা করে নেয় বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বিশেষ করে চলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর নজরদারির ফলাফল ইতিবাচক হবে বলেই আমরা মনে করি। এতে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে বলেও আমাদের আশাবাদ।
অপরদিকে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ‘একটি মহল খাদ্য ঘাটতির বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তবে বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা নেই। মজুদদারির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এ অভিযান আরও জোরালো হবে।’ অভিযান জোরালো করার এ অবস্থান ধরে রাখতে হবে। একইসাথে খাদ্য ঘাটতি নিয়ে কেউ যেন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে না পারে সেই বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নিতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।







