মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনের অন্যতম প্রধান উৎস। একইসাথে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম জলবায়ু পরিবর্তনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির রায়ান থোম্বসের নেতৃত্বে পরিচালিত এবং ২ জুলাই পিএলওএস ক্লাইমেট(PLOS Climate) এ প্রকাশিত গবেষণায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে।
গবেষণায় বলা হয়, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ , গবেষণা এবং কর্মী, সরঞ্জাম ও বিশ্বব্যাপী অস্ত্র পরিবহন এসব কার্যক্রমে প্রচুর শক্তি ব্যবহার করা হয়, যার ফলে প্রচুর কার্বন নির্গমন ঘটে। পূর্ববর্তী গবেষণায়ও একটি দেশের সামরিক ব্যয় এবং জাতীয় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মধ্যে একটি যোগসূত্র লক্ষ্য করা গেছে।
পাবলিক লাইব্রেরি অফ সায়েন্সের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সামরিক ব্যয় এবং সামরিক শক্তি ব্যবহারের সরাসরি পরিমাপের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে খুব কম গবেষণা হয়েছে। তবে এই শূন্যতা পূরনে থোম্বস ও তার দল ১৯৭৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মার্কিন সামরিক ব্যয় এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের শক্তি ব্যবহার সংক্রান্ত প্রকাশ্য তথ্যের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেছেন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্কিন সামরিক ব্যয় হ্রাস পেলে শক্তি ব্যবহারে হ্রাস ঘটে। এই প্রভাব মূলত ঘাঁটি, যানবাহন ও সরঞ্জাম এবং বিশেষ করে জেট জ্বালানির শক্তি ব্যবহারের হ্রাস থেকে আসে। গবেষকরা বলেন, সামান্য মার্কিন সামরিক ব্যয় হ্রাসও জ্বালানি ব্যবহারে অর্থবহ হ্রাস ঘটাতে পারে এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে অবদান রাখতে পারে।
তারা ২০২৩ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে বিভিন্ন ব্যয় বৃদ্ধির বা হ্রাসের সম্ভাব্য প্রভাবের পূর্বাভাসও তৈরি করেছেন। এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে ধারাবাহিক ব্যয় হ্রাসের ফলে এমন বার্ষিক শক্তি সাশ্রয় হতে পারে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার রাজ্য বা স্লোভেনিয়া দেশের বার্ষিক শক্তি ব্যবহারের সমপরিমাণ।
এছাড়াও গবেষকরা জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসইতার জন্য সামরিক ব্যয় ও শক্তি ব্যবহারের সম্পর্কের ওপর আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।








