মঙ্গলগ্রহ নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি মঙ্গলগ্রহে পাঠানো ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) মহাকাশযান ‘এক্সোমার্স’ থেকে একটি এলিয়েন ‘মক’ সংকেত পাওয়া গেছে। ট্রেগ গ্যাস অরবিটার ব্যবহার করে পাওয়া এলিয়েনের এই সংকেত ‘ডিকোড’কে ভাষায় রূপান্তর করার প্রক্রিয়ায় চলছে গবেষণা।
আজ বুধবার এনডিটিভি জানায়, গত বুধবার ২৪ মে রাত ৯টায় ইএসএ বার্তাটি প্রকাশ করে। সে থেকেই সংকেতটিকে ডিকোড করার গবেষণা চালছে।
মানুষ সবসময়ই মহাকাশ এবং পৃথিবী ছাড়া অন্য গ্রহে জীবনের সন্ধানে গবেষণার কথা শুনছে। বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা অন্য কোনো গ্রহে প্রাণী আছে কিনা তা খুঁজে বের করার জন্য মহাকাশ মিশন পাঠাতে থাকে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থাও মঙ্গল গ্রহে তাদের মিশন পাঠায়। আর তারা গ্যাস অরবিটার ব্যবহার করে মঙ্গল গ্রহ থেকে একটি এলিয়েন ‘মক’ সংকেত পায়।
প্রকল্প কর্মকর্তা ড্যানিয়েলা ডি পাওলিস বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সংকেত নিয়ে গবেষণা হয়েছে। বহির্ভূত অঞ্চল থেকে পাওয়া বার্তাটি মানবজাতির জন্য রূপান্তরমূলক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।
ইএসএ তার ওয়েবসাইটে বলছে, বার্তাটি প্রথম ১০ মে জার্মানির ডার্মস্টাড্টে এজেন্সির মিশন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে মহাকাশযানে পৌঁছায়। এটি তার মেমোরিতে সংরক্ষণ করে পরে তা ‘টেলিমেট্রি’ বা ডেটাতে রূপান্তরিত হয়েছিল এবং পৃথিবীতে ফিরে এসেছে।
ইএসএ আরও বলছে, যেকোন দেশ এবং সংস্কৃতির জনসাধারণ এবং বিশেষজ্ঞদেরকে বার্তাটি ভাষান্তর করে ব্যাখ্যা করতে আহ্বান জানায়। বার্তাটি বর্তমানে এনকোড বা লক হয়ে আছে। বার্তাটিকে ক্র্যাক করে ব্যাখ্যামূলক বক্তব্য ইএসএ-এর কাছে জমা দিতে বলছে সংস্থাটি।
সংস্থাটি বলছে, বার্তাটির প্রযুক্তিগত ডিকোডিং এবং সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যার জন্য যেকোন বৈজ্ঞানিক ডেটা, চিন্তাভাবনা, স্কেচ, অঙ্কন এবং ধারণা জমা দিতে। গবেষকদের পাঠানো ধারণাগুলো প্রকল্পের ওয়েবসাইট এবং প্রকল্পের সাথে যুক্ত সামাজিক মিডিয়াতে পোস্ট করা হবে। এছাড়াও বার্তাটি ডিকোডিং এবং ব্যাখ্যা করার প্রক্রিয়া গবেষকদের সাথে ভাগ করে নেওয়া হবে বলেও জানায় সংস্থাটি।
প্রকল্পের ওয়েবসাইটে মঙ্গলগ্রহ থেকে পাওয়া বার্তাটির ব্যাখ্যা কিভাবে জমা দিতে হবে তার একটি বিবরণ রয়েছে।
ইএসএ’র পাঠানো মহাকাশাযানটি অক্টোবর ২০১৬ সাল থেকেই লাল গ্রহকে প্রদক্ষিণ করছে। সম্ভাব্য জৈবিক বা ভূতাত্ত্বিক তথ্য অনুসন্ধানে কাজ করছে মহাকাশযানটি।








