বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক এবং প্রথম বাংলা শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’ এর পরিচালক ফজলুল হক। শনিবার (২৬ অক্টোবর) এই গুণী ব্যক্তিত্বের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী।
তাঁর প্রয়াণ দিবসে চ্যানেল আই স্টুডিওতে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে দেওয়া হবে ‘ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার ২০২৪’। এবার পদক পাচ্ছেন চলচ্চিত্র পরিচালনায় গিয়াস উদ্দিন সেলিম ও চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় আলাউদ্দিন মাজিদ।
১৯৩০ সালে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ফজলুল হক। পঞ্চাশের দশকে যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যাত্রা শুরু করেনি চলচ্চিত্রশিল্প, সে সময় বগুড়ার মতো মফস্বল শহর থেকে ‘সিনেমা’ নামে চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। পত্রিকাটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সিনেমাবিষয়ক সাময়িকী। সারা দেশেই এটি আলোড়ন তুলেছিল। তৎকালীন সময়ের অত্যন্ত মানসম্পন্ন এবং জনপ্রিয় পত্রিকা ‘সিনেমা’। এ সূত্রে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ফজলুল হক।
এছাড়া ষাটের দশকে ‘প্রেসিডেন্ট’ নামে দেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্রটিও নির্মাণ করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, ‘প্রেসিডেন্ট’ ছবিতে শিশুনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে পুরস্কৃত হয়েছিলেন আজকের স্বনামধন্য টিভি ব্যক্তিত্ব ফজলুল হকের সন্তান ফরিদুর রেজা সাগর।
১৯৯০ সালের ২৬ অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন ফজলুল হক। ২০০৪ সাল থেকে ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে পুরস্কার। ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির পক্ষে ‘ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার’ প্রর্বতন করেন ফজলুল হকের সহধর্মিনী কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন।
এরআগে ‘ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার’ পেয়েছেন- সাইদুল আনাম টুটুল এবং ফজল শাহাবুদ্দিন (২০০৪), চাষী নজরুল ইসলাম ও আহমদ জামান চৌধুরী (২০০৫), হুমায়ূন আহমেদ ও রফিকুজ্জামান (২০০৬), সুভাষ দত্ত ও হীরেন দে (২০০৭), গোলাম রাব্বানী বিপ্লব ও আবদুর রহমান (২০০৮), আমজাদ হোসেন ও সৈয়দ শামসুল হক (২০০৯), মোরশেদুল ইসলাম ও চিন্ময় মুৎসুদ্দী (২০১০), ই আর খান ও অনুপম হায়াৎ (২০১১), নাসিরউদ্দিন ইউসুফ ও গোলাম সারোয়ার (২০১২), রাজ্জাক ও রেজানুর রহমান (২০১৩), সৈয়দ সালাহউদ্দিন জাকী ও আরেফিন বাদল (২০১৪), মাসুদ পারভেজ ও শহীদুল হক খান (২০১৫), আজিজুর রহমান ও মোস্তফা জব্বার (২০১৬), আবদুল লতিফ বাচ্চু ও নরেশ ভুঁইয়া (২০১৭), মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও শফিউজ্জামান খান লোদী (২০১৮), কোহিনূর আখতার সুচন্দা ও রাফি হোসেন (২০১৯), আলমগীর ও দীপেন (২০২০) এবং কাজী হায়াত ও মাজহারুল ইসলাম (২০২১)।









