দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে সম্মানী বাড়ানোর দাবি করে আসছিলেন রেফারিরা। ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বাফুফের পরিচালিত লিগ বা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের ফি বৃদ্ধির দাবি করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে গত ১৪ জুনের সভায় রেফারিদের ম্যাচ ফিসহ অন্যান্য দাবির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসে। কিন্তু যে পরিমাণ অর্থ ম্যাচ ফি’র প্রস্তাবনায় আনা হয়, তাতে একেবারেই সন্তুষ্ট ছিলেন না রেফারিরা। ম্যাচ পরিচালনা থেকে নিজেদের বিরত রাখার সিদ্ধান্তের কথাও তারা জানিয়েছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে ১৯ জুন রেফারিরা ম্যাচ ফি বাড়ানোর জন্য বাফুফের কাছে আবারও প্রস্তাবনা দেয়। রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ ও রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং সম্মিলিতভাবে ম্যাচ ফি বৃদ্ধির প্রস্তাবনায় সংশোধন আনেন।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে একজন রেফারি বর্তমানে সম্মানী পান ২,৪০০ টাকা। নতুন প্রস্তাবনায় সম্মানী বেড়ে ম্যাচ প্রতি ৪,০০০ টাকা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্ষেত্রে ১,৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ করা হয়েছে।
সহকারী রেফারিরা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে সম্মানী পাচ্ছেন ২,২০০ টাকা করে। যা বেড়ে ৩,৮০০ টাকা হবে। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপে তারা পান ১,৫০০ টাকা, এখন পাবেন ২,৮০০ টাকা।
চতুর্থ রেফারিরা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে এখন পান ১,৮০০ টাকা, তা থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৩,৫০০ টাকায়। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপে তাদের সম্মানী ১,২০০ টাকা, বেড়ে হচ্ছে ২,৫০০ টাকা।
যাতায়াতের জন্য রেফারি, সহকারী রেফারি এবং চতুর্থ রেফারিরা নিকটবর্তী দূরত্বের জন্য ১,০০০ টাকা, মধ্যবর্তী দূরত্বের জন্য ১,৫০০ টাকা এবং দূরবর্তী দূরত্বের জন্য ২,০০০ টাকা করে পান। নতুন প্রস্তাবনা যাতায়াতের জন্য ভাতা বৃদ্ধি করা হয়নি।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মহার্ঘ ভাতা রেফারি, সহকারী রেফারি এবং চতুর্থ রেফারিরা বর্তমানে ১,৪০০ টাকা করে পান। সামনে পাবেন ১,৮০০ টাকা করে। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে অঙ্কের পরিমাণটা ১,২০০ টাকা, যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১,৮০০ টাকায়।
স্থানীয় রেফারিরা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ও বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে যাতায়াত ভাতা ও মহার্ঘ ভাতা মিলিয়ে পান মোট ৫০০ টাকা। নতুন প্রস্তাবনায় তা বেড়ে ১,৮০০ টাকা হতে যাচ্ছে।







