প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসার খনি ব্রাজিলেই জন্ম তার। চার বছর বয়সে ফুটবলে হাতেখড়ি। ছোট্ট সেই ছেলেটাকে অভাবের সংসারে মুখে খাবারই তুলে দিতে পারছিলেন না বাবা।
পালমেইরাস ক্লাবের পরিচ্ছন্ন কর্মীর কাজ পাওয়ার পর খুলেছিল ভাগ্য। ক্লাবটির যুব দলের হয়ে তার ছেলে খেলার সুযোগ পেয়েই ১৬৯ ম্যাচে করলেন ১৬৫ গোল। এড্রিক ফিলিপে নামের প্রতিভাধর সেই ফুটবলার সেসময়ই নজরে পড়েছিলেন।
১৬ বর্ষী ফিলিপে ২০২২ সালের অক্টোবরে পালমেইরাসের মূল দলের হয়ে প্রথম পেশাদার ফুটবলে নাম লেখান। দুমাস পর পান তাক লাগানো খবর। বয়স ১৮ হলেই ৬০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ২০২৪ সালের গ্রীষ্ম মৌসুমে হয়ে যাবেন রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়।
এরপর যেন শুরু হল এড্রিকের ছন্দপতন। ব্রাজিলের লিগ সিরি আ-তে টানা ১০ ম্যাচে পাননি গোলের দেখা। চলতি সপ্তাহে আরবি ব্রাগান্টিনোর বিপক্ষে খেলার ৬০ মিনিটে তাকে বেঞ্চে বসিয়ে দেন কোচ আবেল ফেরেইরা। পিতৃতুল্য কোচ তাকে সান্ত্বনা দিতে জড়িয়েও ধরেন। কিন্তু বেঞ্চে বসে এড্রিক কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কিশোর বয়সে অফফর্মের নিষ্ঠুর বাস্তবতা মানতে না পারাতে এড্রিক কেঁদেছিল, সেটিই জানালেন আবেল। বললেন, ‘হ্যাঁ এটা সত্যি সে তার মুখ ঢেকেছিল। কারণটা হল সে কেঁদেছিল। আমি তার বাবা নই। কিন্তু আমার তাকে আলিঙ্গন করা উচিত ছিল।’
অমিত সম্ভাবনাময় ফুটবলারের প্রতি কোচের উপদেশ, ‘কেউ সমালোচনা পছন্দ করে না। পাঁচ বা ছয়টি গোল করার জন্য তার উপর প্রচণ্ড চাপ থাকে এবং সে নিজেই এটি মোকাবেলা করার চেষ্টা করে। গোলটি সঠিক সময়ে চলে আসবে। কেবল শান্ত থাকতে হবে এবং হাসতে হবে।’
অল্প বয়স হওয়া সত্ত্বেও এন্ড্রিকের উপর রয়েছে বিশাল প্রত্যাশার চাপ। তাকে ব্রাজিলের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রত্যাশার চাপ সামলে কিশোর এড্রিকের চোখের জল হয়তো জ্বালাবে জেদের আগুন। সুযোগ পেয়েই প্রতিপক্ষ জালে বারবার জড়াবেন বল। রিয়াল তাকে দলে টানাকে সঠিক প্রমাণে হবেন মরিয়া। কোচের উপদেশে শান্ত থেকে হাসতে হাসতে দলকে জেতাবেন একের পর এক ম্যাচ।







