বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। শেষ ৭ ম্যাচে ৩ জয়, লা লিগায় ঘরের মাঠে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে পরশু রাতে ২-০ গোলে হার। সব দেখে নড়েচড়ে বসেছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের কর্তৃপক্ষ। শেষ হারের পর বার্নাব্যুতে কর্তারা জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। আলোচনা হয়েছে কোচ জাভি আলোনসোর ভবিষ্যৎ ও পরিস্থিতি নিয়ে। মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ফলের উপর অনেক নির্ভর করছে জাভির চাকরি টেকা, খবর এমনও। বরখাস্ত হলে কে পরের কোচ? স্প্যানিশ গণমাধ্যমে আভাস এসেছে লস ব্লাঙ্কোস সূত্রে।
ক্লাবটির এক কর্তার বরাতে গণমাধ্যমে খবর, সেল্টা ম্যাচের পর রিয়াল কর্তারা জরুরি বৈঠকে বসেন, মধ্যরাত পর্যন্ত চলে আলোচনা। ক্লাব পরিচালকদের মধ্যে মতবিরোধ হয়, কেউ চেয়েছেন সঙ্গে সঙ্গে আলোনসোকে বরখাস্ত করতে, কেউ বলছেন ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ম্যাচটি পর্যন্ত দেখতে। রোববার রাতের হার, দুই লাল কার্ড ও দর্শকদের ক্ষোভ, সব মিলিয়ে ক্লাব নেতৃত্বে এবং কোচিং নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। জাভির পরিবর্তে দায়িত্ব যেতে পারে ইয়ূর্গেন ক্লপ, আলভারো আরবেলোয়া বা জিনেদিন জিদানের হাতে।
শেষ ৫ ম্যাচে সবে ৬ পয়েন্ট তুলতে পেরেছে রিয়াল। অক্টোবরে লা লিগায় বার্সেলোনাকে হারানোর পর ৫ পয়েন্টে শীর্ষে ছিল তারা, এখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে ৪ পয়েন্টে পিছিয়ে। ক্লাবটির শীর্ষ কর্তারা মনে করছেন, কোচের সঙ্গে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে। যদিও সব দোষ ৪৪ বর্ষী কোচের উপর চাপানো হচ্ছে না, তবুও দলের পারফরম্যান্স ও মাঠে বিভ্রান্তি নিয়ে কোচের উপরে অসন্তোষ বাড়ছে ম্যানেজমেন্টের।
এদিকে, লিভারপুলের দায়িত্ব ছাড়ার পর ক্লপ কোচিং থেকে দূরে আছেন। বর্তমানে জার্মান কোচ রেডবুলের গ্লোবাল হেড অব ফুটবল হিসেবে কাজ করছেন। খবর, রিয়ালের সংকটে আলোনসোর বিকল্প হিসেবে যে তিনজনের নাম এগিয়ে, তাদের মধ্যে কোচের দৌড়ে ক্লপ অন্যতম।
ক্লপ আগে বলেছেন আর পূর্ণসময়ের কোচিংয়ে ফিরতে আগ্রহী নন। তারপরও মাদ্রিদের আলোচনায় তার নাম আসছে। ক্লাবটির কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, ভেঙে পড়া স্কোয়াডের মধ্যে শৃঙ্খলা ও কর্তৃত্ব ফেরাতে ক্লপের মতো নেতৃত্বের মানুষই প্রয়োজন। রেডবুলে যোগ দেয়ার পর চুক্তিতে অবশ্য কেবল জার্মান জাতীয় দলের চাকরির জন্য আবেদন করার একটি সুযোগ রাখার ধারা আছে।
রিয়ালের পছন্দের তালিকায় আছেন দুই পুরনো সঙ্গী, আরবেলোয়া ও জিদান। মাদ্রিদ বোর্ড তাদের উপর নজর রাখছে। আরবেলোয়া বর্তমানে রিয়ালের যুব একাডেমি কাস্তিয়ার কোচ, ক্লাবটির সংস্কৃতি ও দর্শনে বেড়ে ওঠা তরুণ কোচ হিসেবে তিনি উপযুক্ত।
অন্যদিকে জিদান ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের কাছের একজন। তিনি রিয়ালকে টানা তিন চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন। ফ্রান্সের গণমাধ্যমে খবর, জিদান এখন জাতীয় দলের কোচ হওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় আছেন। ২০১৯ সালে হুলিয়ান লোপেত্তেগি ও সোলারির ব্যর্থতার পর মাদ্রিদ একইরকম সংকটে জিদানের কাছে ফিরেছিল। এবার দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি খুবই অনিশ্চিত রিয়ালকে তিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানো জিজুর। কারণ বিশ্বকাপের পর দিদিয়ের দেশমের জায়গায় তার ফ্রান্সের দাযিত্ব নেয়ার পালে জোর হাওয়া আছে।









