কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে এমন খবরে সয়লাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তবে রাজধানীর বাজারে দাম বাড়ার এমন খবরের সত্যতা মেলেনি। চট্টগ্রামসহ বন্যা কবলিত অঞ্চলগুলোতে দাম বাড়তির দিকে।
রাজধানীর বাজারে কাচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের বাজারে প্রতি কেজি মরিচের দাম হাজার টাকা ছুঁইছুই। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন: চট্টগ্রামের বাজারে অধিকাংশ সবজি আসে বগুড়া, ফরিদপুর, জামালপুরসহ দূরের বিভিন্ন জেলা থেকে। গত তিন দিন কাঁচা মরিচসহ সবজি আসছে না। ফলে বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। এ সুযোগে কয়েকগুণ দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন অসাধু খুচরা বিক্রেতারা।
সরেজমিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা গেছে: কাঁচা মরিচের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। প্রকার ভেদে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। তবে দেশি মরিচের সরবরাহ কিছুটা কম। আমদানি (ভারত) মরিচের আধিক্য বেশি।
সেখানে কথা হয় বেসরকারি চাকুরিজীবী আমির হোসেনের সঙ্গে, বাসা আফতাবনগর । এসেছেন কাঁচা মরিচ কিনতে। কারণ জানতে চাইলাম আমরা। বললেন: আমার অফিস পাশেই, ফেসবুকে দেখলাম ১ হাজার টাকা মরিচের কেজি। আমাদের এলাকার বাজারে আবার দাম বেশি রাখে। অফিস শেষ তাই ভাবলাম মরিচটা কিনে নিয়ে যাই। বাজারে এসে দেখি ২০০ টাকা কেজি। এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) নিলাম। ভালোই হলো। মহল্লার দোকানে ফেসবুক দেখে দাম বাড়ায়।
শুকনা মরিচ প্রকার ভেদে প্রতিকেজি ৩২০ ও ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, হাতিরপুল ও নিউমার্কেট কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। বন্যার কারণে দাম বেড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে কারও কারও মাঝে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন: দেশে ১১টি জেলা বন্যা কবলিত। বন্যার কারণে সবজির মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই। কারণ যেসব এলাকায় বন্যা হয়েছে, সেখান থেকে খুবই কম পরিমাণে সবজি ঢাকায় আসে।
নাগালের মধ্যে রয়েছে অন্য সব সবজিও। কাঁচা পেঁপে ৪০, পটল ৫০, ঢেঁড়স ৪০, চিচিঙ্গা ৫০, বেগুন ৬০, করলা ৬০, আলু ৬০, পেঁয়াজ ১১৫ থেকে ১২০, রসুন ২২০, আদা ২৬০, গাজর ১৫০, টামেটো ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দরে কারওয়ানবাজারে সবজি বিক্রি হলে মহল্লার দোকানগুলোতে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হবে বলে জানা গেছে।
মাছের মধ্যে পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০, টাকি ৪০০, চাষের পাবদা ৪০০, চাষের শিং ৫০০ থেকে ৬০০, চাষের কৈ ৪০০, কেজির উপরে রুই ৩৫০, আমদানি বোয়াল ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নদীগুলোতে পানি বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো ধরা পড়ছে না ইলিশ। তাই কিছুটা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে জাতীয় এ মাছ। এক কেজির উপরের প্রতিটি ইলিশ ১৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে পোল্ট্রি মুরগি ১৭০, পাকিস্তানী জাতের ২৪০, দেশি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮০০ ও খাসির মাংস ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।









