বিপিএলে শুরুর দিকে অপ্রতিরোধ্য ছিল রংপুর রাইডার্স। টানা আট জয়ে সবার আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত। এরপরই ছন্দ হারাল গ্লোবাল চ্যাম্পিয়ন দলটি। দুর্বার রাজশাহীর কাছে টানা দুই ম্যাচে হার। আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। টানা চার হারে এক সময় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা রংপুর এখন এলিমিনেটরে। অর্থাৎ, হারলেই বাদ। এমন সমীকরণে সোমবার দুপুরে প্লে-অফে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে নামছে দলটি। আর খুলনাকে হারানোর মধ্য দিয়ে জয়ে ফিরে ফাইনালে খেলতে চায় নুরুল হাসান সোহানের দল।
কোয়ালিফায়ারের দৌড়ে লিগপর্বের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত টিকে ছিল রংপুর রাইডার্স। তবে শেষ ম্যাচে ফরচুন বরিশালকে হারায় চিটাগং কিংস। তাতে কোয়ালিফায়ারে খেলার সুযোগ হারায় রংপুর। প্রথম কোয়ালিফায়ারে বরিশালের বিপক্ষে খেলবে চিটাগং। প্রথম কোয়ালিফায়ারে থাকতে পারলে ফাইনালে যাওয়ার জন্য দুটি সুযোগ পেতো রংপুর। এখন তাদের ফাইনালে যাওয়াটা কিছুটা হলেও কঠিন। এলিমিনেটরে জেতার পর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেও জিততে হবে। তাই ম্যাচগুলো তাদের জন্য ‘ডু অর ডাই’।
দলটির অন্যতম অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী জানালেন এমনই। এলিমিনেটরে নামার আগের দিন বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুশীলন সেরে নিয়েছে রংপুর। পরে সংবাদ মাধ্যমে কথা বলেন মেহেদী।
‘এখানে (সেরা দুইয়ে) থাকতে পারলে ভালো হতো। এখন তো আমাদের চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি। সেরা দুইয়ে থাকলে সুযোগ দুইটা থাকে। এখন পুরো নক আউটে চলে এসেছি। এটা আসলে ডু অর ডাই। দেখা যাক আগামীকাল কী হয়।’
নিজেদের শেষ চার ম্যাচে জিততে না পারলেও খুলনাকে হারাতে পর্যাপ্ত আত্মবিশ্বাস আছে রংপুর ক্রিকেটারদের, মেহেদী জানালেন এমনই। বলেছেন, ‘বিশ্বাস তো সব সময় আছে। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই বিশ্বাস নিয়ে যায় মাঠে। কিন্তু সব সময় দিন এক রকম যায় না। আমরা কোয়ালিফাই করতে পারিনি, কিন্তু এখনো আমাদের একটা সুযোগ আছে। সুযোগটা আমরা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি। আমার মনে হয়, দলে যারা আছে, সবাই ফুরফুরে মেজাজে আছে। কারণ, এ সময় দল হিসেবে যদি ভেঙে পড়ি, আমরা চারটা হেরেছি, তাহলে এখান থেকে বের হতে পারব না।’
বিপিএলের সবশেষ দুই আসরে প্লে-অফ থেকে বাদ পড়েছিল রংপুর। ২০২৩ আসরে এলিমিনেটরে বরিশালের বিপক্ষে জিতলেও দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে হেরে বাদ পড়েছিল তারা। গত মৌসুমেও কুমিল্লার কাছে হেরে যায় তারা। তবে এবার ফাইনালে যেতে মুখিয়ে রংপুর, জানিয়েছেন মেহেদী।
বলেছেন, ‘শেষ দুই বছর আমরা ৩ নম্বর হয়েছি, ফাইনালে উঠতে পারিনি। এ বছর আরও একটা সুযোগ আছে। গত দুই বছরের এটা (বাদ পড়া) ভাঙতে চাই এবার। আমরা ফাইনালে যেতে চাই। ফাইনালে যেতে হলে আগামীকালের ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের স্থানীয় যে সাতজন আছে, তাদের পারফরম্যান্সটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’









