টানা আট জয়, পরে পাতার উল্টোপিঠ দেখল রংপুর রাইডার্স। টানা চার হারে লিগপর্ব শেষে প্লে-অফে ঘুরে দাঁড়ানোর আশার কথা বলেছিলেন দলটির অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান। লক্ষ্যে তিন বিদেশি তারকা আনে দলটি। লাভ হয়নি। ব্যাটিং ব্যর্থতায় শতরানের আগে থেমে যায় গ্লোবাল চ্যাম্পিয়নরা। খুলনা সহজে তাড়া করেছে রান। প্লে-অফে রংপুরের বিপিএল যাত্রা থামিয়ে সহজ জয়ে কোয়ালিফায়ারে গেছে খুলনা।
বিপিএলের সবশেষ দুই আসরে প্লে-অফ থেকে বাদ পড়েছিল রংপুর। ২০২৩ আসরে এলিমিনেটরে বরিশালের বিপক্ষে জিতলেও দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে হেরে যায় তারা। গত মৌসুমেও কুমিল্লার কাছে হেরে যায়। এবার খুলনার কাছে হেরে বিদায় নিলো।
শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্লে-অফের প্রথম ম্যাচ এলিমিনেটরে টসে জিতে আগে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নেয় রংপুর। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১৬.৫ ওভারে ৮৫ রানে গুটিয়ে যায় দলটির ইনিংস। জবাবে ৫৮ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে খুলনা।
স্বল্পরানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারে উইকেট হারায় খুলনা। মেহেদী হাসান মিরাজ ফিরে যান রানের খাতা খোলার আগে। নাঈম শেখ ও অ্যালেক্স রোস অবিচ্ছিন্ন ৮৮ রানের জুটিতে খুলনার কোয়ালিফায়ার যাত্রা নিশ্চিত করেন। তিনটি চার ও চারটি ছক্কায় ৩৩ বলে ৪৮ রান করে নাঈম, চারটি চারে ২৭ বলে ২৯ রান করে অ্যালেক্স রোস অপরাজিত থাকেন।
রংপুরের হয়ে একমাত্র উইকেটটি নেন আকিফ জাভেদ।
এলিমিনেটরে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে নামার আগে শক্তি বাড়াতে টিম ডেভিড, আন্দ্রে রাসেল ও জেমস ভিন্সের মতো তারকাদের এনেছিল রংপুর। মিরপুরের উইকেটে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি তাদের কেউই। তিন তারকা ব্যাটার মিলে করেছেন ১২ রান। ওপেনার জেমস ভিন্স ৭ বলে ১ রান, টিম ডেভিড ৯ বলে ৭ রান এবং আন্দ্রে রাসেল করেন ৪ রান।
শুরু থেকে রংপুরকে চেপে ধরেছিল খুলনা। ১৫ রানে ৫ ব্যাটার হারায় দলটি। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আসে ১৭ রান। টিম ডেভিডও ফিরে যান দ্রুতই। সপ্তম উইকেটে ১৮ রান যোগ করেন নুরুল হাসান সোহান ও আন্দ্রে রাসেল। ৫০ রানে রাসেল ফিরে যান। দুই রান যোগ করতে না করতেই আরও দুই উইকেট হারায় দলটি। ফিরে যান রাকিবুল হাসান ও নুরুল হাসান সোহান।
শেষ উইকেটে নাহিদ রানাকে সঙ্গী করে লড়াই চালিয়ে যান আকিফ জাভেদ। শেষপর্যন্ত ৮৫ রানে আকিফ ফিরে গেলে গুটিয়ে যায় রংপুরের ইনিংস। চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ১৮ বলে ৩২ রান করেন আকিফ। নুরুল হাসান সোহান ২৫ বলে ২৩ রান করেন। বাকিদের কেউই নামের সাথে সুবিচার করতে পারেননি।
খুলনার হয়ে মিরাজ ৪ ওভারে ১০ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। নাসুম ১৬ রান খরচায় উইকেট নেন ৩টি। হাসান মাহমুদ, মুশফিক হাসান ও মোহাম্মদ নাওয়াজ নেন একটি করে উইকেট।









