সিলেট থেকে: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ইতিহাসে তৃতীয় সুপার ওভারের সাক্ষী হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। এর আগে ২০১৯ ও ২০২০ মৌসুমে সুপার ওভারে গড়িয়েছিল ম্যাচের ভাগ্য। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের করা ১৫৯ রানের বিপরীতে পরে ব্যাট করে রংপুর রাইডার্সও থামে ১৫৯ রানে। শেষপর্যন্ত রোমাঞ্চকর সুপার ওভারে জয় পেয়েছে রাজশাহী।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার টসে জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান রংপুরের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রানের পুঁজি পায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে রংপুরও থামে ১৫৯ রানে।
সুপার ওভারে রংপুরের হয়ে মাঠে নামেন কাইল মায়ার্স এবং তাওহীদ হৃদয়। রাজশাহীর হয়ে বোলিংয়ে রিপন মণ্ডল। প্রথম বলেই ওয়াইড দেন রিপন। পরের বল ফুলটস, তবে কাজে লাগাতে পারেননি মায়ার্স, ডট বল। দ্বিতীয় বলে ১ রান নেন মায়ার্স। তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নেন হৃদয়। পরের ডেলিভারিতে ওয়াইড দেন রিপন। চতুর্থ বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন মায়ার্স। ক্রিজে আসেন খুশদিল শাহ। পঞ্চম বলে ১ রান নেন তিনি। শেষ বলেও রিপনের দুর্দান্ত ইয়র্কার। ১ রানের বেশি নিতে পারেননি হৃদয়। দ্বিতীয় রান নিতে গেলে খুশদিলকে রানআউট করেন রিপন। সুপার ওভার থেকে রংপুর রাইডার্স নিতে পারে কেবল ৬ রান।
জবাবে রাজশাহীর হয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন তানজিদ হাসান তামিম এবং সাহিবজাদা ফারহান। বোলিংয়ে রংপুর রাইডার্সের মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বলেই চার মারেন তানজিদ। দ্বিতীয় বলে ২ রান নিয়ে সমতায় পৌঁছেন। তৃতীয় বলে দারুণ এক চার মারেন তানজিদ। ৩ বলেই ১০ রান নিয়ে সুপার ওভারে জিতে যায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সুপার ওভারে ছন্নছাড়া বোলিং করেন মোস্তাফিজুর রহমান।
শুরুতে ব্যাটে নেমে ১২ ওপেনিং জুটি ভেঙে তানজিদ হাসান তামিম আউট হন ২ রানে। এরপর শাহিবজাদা ফারহান ও শান্তর ব্যাটিংয়ে দেখেশুনে এগোতে থাকে রাজশাহী। ৯৩ রানে জুটি ভেঙে আউট হন শান্ত। তার ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে ৪১ রান। অবশ্য টিকে থাকতে পারেননি ফারহানও। ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৪৬ বলে ৬৫ রান করে ফেরেন তিনি। তার উইকেটটি নেন আলিস আল ইসলাম।
৩৮ রান তুলতে গিয়ে পাঁচ উইকেট হারায় রাজশাহী। মোহাম্মদ নাওয়াজের ১০ রান বাদ দিলে বাকিদের কেউই আর পেরোতে পারেনি দুই অঙ্কের ঘর। তাতে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রানের থামে রাজশাহী।
৪৩ রান খরচায় তিন উইকেট নিয়েছেন ফাহিম আশরাফ। এছাড়া দুই উইকেট নেন আলিস আল ইসলাম ও এক উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজুর রহমান।
লক্ষ্যে নেমে ১৬ রানে লিটন দাস আউট হলেও জয়ের ভিত গড়ে দেন ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয়। দুজনেই হাঁকান ফিফটি। ৭ চারে ৩৯ বলে ৫৩ রান করে হৃদয় ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে রংপুর। জয়ের পথে থাকা রংপুর অবশ্য সেই চাপ সামাল দিতে ব্যর্থ হয়।
কাইল মায়ার্স ৯ রানে আউট হলে জয়ের সমীকরণ কঠিন হতে থাকে রংপুরের। শেষ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ৭ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি তারা। হাতেও ছিল ৭ উইকেট। কিন্তু পেসার রিপন ও রাজশাহীর ফিল্ডাররা সব এলোমেলো করে দেন। প্রথম বলে খুশদিল শাহকে সাজঘরে ফেরানোর পর ক্রিজে নেমে পরের ৩ বলে ৬ রান তুলেছিলেন নুরুল হাসান সোহান। পঞ্চম বলে তিনি ক্যাচ দিয়ে ফিরলে শেষ বলে ক্রিজে নেমে ১ রান নিতে ব্যর্থ হন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি রানআউট হলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
রাজশাহীর হয়ে ২টি করে উইকেট নেন রিপন ও এসএম মেহেরব।









