কলকাতাজুড়ে যখন লিওনেল মেসির ভারত সফরকে ঘিরে উন্মাদনার ঢেউ, ঠিক তখনই সেই উচ্ছ্বাসেই যেন বিপত্তি! আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকরের সঙ্গে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলী।
হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও ফুটবলের জাদুকরকে একঝলক দেখতে না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পরেছেন শহরবাসীর একাংশ। কারণ এদিন মাঠে মেসি এলেও তাকে ঘিরে থাকেন বিভিন্ন মহলের বিশিষ্টজনেরা। আর তার ফলেই একঝলকও ময়দানের হিরোকে চাক্ষুষ করার সুযোগ হয়নি আমজনতার।
এসব কিছুর মধ্যেই আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছিল টলিউডের ‘লেডি সুপারস্টার’ শুভশ্রী গাঙ্গুলীর পোস্ট করা ছবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা শুভশ্রীর সেই ছবিতে দেখা গিয়েছিল মেসির সঙ্গে পোজ দিতে। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে তার আপ্ত-সহায়ককেও দেখা গিয়েছিল ছবি তুলতে। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে উঠেছিল নিন্দার ঝড়।
এই আবহে স্ত্রী-নায়িকা শুভশ্রীর জন্য ব্যাট ধরলেন তার স্বামী তথা তারকা পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন রাজ। যার শুরুতেই শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া ঘটনার সমালোচনায় মুখর হন তিনি।
ঘটনার সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘প্রথমেই বলি, গতকাল যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনের অরাজকতা অপ্রত্যাশিত ঘটনা। এটা ফুটবল এবং ফুটবলপ্রেমী বাঙালির অসম্মান। এই অরাজকতার সম্মুখীন আমরা আগেও হয়েছি ইস্টবেঙ্গল–মোহনবাগান ম্যাচে। তারপরেও কেন এত বড় ইভেন্টের কাঠামোগত সচেতনতায় ফাঁক থেকে গেল? আয়োজকেরা কী মেসি-র জনিপ্রিয়তা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না? আমি অবশ্যই চাইবো দোষীরা শাস্তি পাক। বাঙালির আবেগ আহত হয়েছে গতকাল।’
এককথায় বলা যায় নিজের শহরে, বাঙালির সেরা খেলা ফুটবলের মাঠে ঘটে যাওয়া এদিনের ঘটনার তীব্র সমালচনা করেছেন তিনি। বুঝিয়েছেন ফুটবলের প্রতি বাঙালির আবেগকে যে কোনও প্রকারে তুচ্ছ করে দেওয়া যায় না।
একইসঙ্গে তিনি এও বুঝিয়েছেন যে, একজন নারী বলে ও শুধুমাত্র বিনোদুনিয়ার সঙ্গে জুড়ে রয়েছেন বলেই একজন মানুষকে যা ইচ্ছে তাই বলা যায় না। শনিবার শুভশ্রী ছবি পোস্ট করার পর থেকেই তাকে নিয়ে চলেছে ট্রোল ও মিমের বন্যা। তা নিয়েই একপ্রকার ক্ষোভপ্রকাশ করে রাজ যা লেখেন তার সারমর্ম এই, ‘হাজার হাজার মানুষ এদিন মেসিকে দেখতে এসেছিলেন বহুমূল্য টিকিটের বিনিময়ে। আর তারপরও যদি তারা মেসিকে একঝলক দেখতে না পান তাহলে তো ক্ষোভ জন্মানোটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকেই না জেনে অনেক কিছু মন্তব্য করছেন কাল থেকে যে, একজন অভিনেত্রীর ওখানে থাকার কী দরকার? তাদের উদ্দেশ্যে বলি, শুভশ্রী গাঙ্গুলীকে কতটুকু চেনেন আপনারা? অভিনেত্রী বলে তিনি মেসির ভক্ত হতে পারেন না? একজন মানুষের লিঙ্গ, পেশা, সম্পর্কের নিরিখে একাধিক সামাজিক পরিচয় থাকে। ঠিক তেমনই শুভশ্রী মা, কখনও বোন, কখনও স্ত্রী, কখনও অভিনেত্রী, কখনও বন্ধু, কখনও আবার কারো ফ্যান। সব কিছুর উপর তিনি একজন মানুষ। কিন্তু এক্ষেত্রে মানবিকতার সমস্ত পরিসীমা পেরিয়ে অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙুলী-কে টার্গেট করে মিম তৈরি করছেন, ট্রোল করছন, একটা অল্টারনেট ন্যারাটিভ তৈরি করছেন রাজনৈতিক নেতারা এবং কিছু সংখ্যক মিডিয়া। গতকাল কিন্তু মিডিয়ার অনেক মানুষ উপস্থিত ছিল মাঠে। তারা কী করছিলেন? তারাই বা আড়ালে থেকে যাচ্ছেন কেন? এদিকে পরিচিত মুখ বলে একজন অভিনেত্রীর শারিরীক গঠন থেকে, তিনি বিধায়কের স্ত্রী, তার সন্তান – পরিবার সব কিছুই সমালোচনায় বিষয় হয়ে উঠছে। কেন? তিনি একজন নারী বলে? বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অভিনেত্রী বলে? যদি কোনো বলিউডের পরিচিত মুখ থাকতেন, আপনাদের ন্যারেটিভ এমনই হত? শুভশ্রী নিজেও গতকালের এই ঘটনায় আহত। ও আপনাদের মতোই মেসিকে দেখতে গিয়েহিল।”
রাজের এই পোস্টে উপচে পড়েছে নেটিজেনদের কমেন্টের ভিড়। শনিবারের মতোই আবারো রাজ ও শুভশ্রীর প্রতি একপ্রস্থ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আবার সকলে। এই পোস্টে আবারও উঠে এসেছে হাজার হাজার টাকা খরচ করে মেসিকে না দেখতে পাওয়ার ক্ষোভ। শনিবার শুভশ্রী ছবি পোস্ট করতেই ‘জনতার টাকায় আপনারা ফুটেজ খাচ্ছেন’, তো কেউ বা আবার শুভশ্রীকে ‘সময়জ্ঞানে’র পাঠ পড়ালেন। তাদের মন্তব্য, ‘যুবভারতী যখন রণক্ষেত্র, তখম এমতাবস্থায় মেসির সঙ্গে ছবি দিয়ে কেন অনুরাগীদের দুঃখ বাড়াচ্ছেন?’ কেউ কেউ আবার শুভশ্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়েছেন, ‘আপনি ফুটবল খেলা দেখেন বা বোঝেন?’-এর মতো কমেন্ট।









