২০১৫ সালে বাবাকে হারান ঋতুপর্ণা চাকমা। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বাবা বরজ বাঁশি চাকমা। ২০২২ সালে ভাই পার্বণ চাকমাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের এই তারকার মা ভূজোপতি চাকমাও আক্রান্ত ক্যান্সারে।
ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মত এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বাঘিনীদের এই সাফল্যযাত্রার অগ্রদূত ঋতুপর্ণা মিয়ানমারের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন। জয়ের পর জানান মায়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার কথা।
ঋতুর মা ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন ঋতু। নিয়মিত ক্যামোথেরাপি দেয়া হচ্ছে। এশিয়ানকাপ বাছাই শেষে দেশে ফিরে মায়ের অপারেশন করাবেন বলে জানান লাল-সবুজের মিডফিল্ডার। তার আশা মা দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবেন।
ঋতুপর্ণার বোন পাম্পী চাকমা তার মায়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। মায়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের মানুষ এবং সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
বলেছেন, ‘আমরা চার বোন। একমাত্র ভাই তিন বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছে। চার বোনের মধ্যে তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেলেও সবারই রয়েছে আর্থিক সমস্যা। ঋতুর ফুটবল খেলা থেকে আয় করা অর্থ দিয়ে চলে আমাদের পরিবার। মা দীর্ঘ সময় ধরে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত। অর্থের অভাবে পরিবারের পক্ষে মায়ের উন্নত চিকিৎসা করানো যাচ্ছেনা। মায়ের চিকিৎসা এবং পরিবারের সংকট নিরসনে দেশের মানুষসহ সরকারী সহায়তা দরকার।’
রাঙ্গামাটি শহর থেকে কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ী এলাকার মগাছড়িতে জন্ম ঋতুপর্ণা চাকমার। মুল সড়ক থেকে প্রায় সাড়ে ৩-৪ কিলোমিটার পাহাড়ী এলাকা পায়ে হেটে যেতে হয় ঋতুপর্ণার বাড়ি। সরকারী আশ্বাস থাকলেও এখনো করা হয়নি দুর্গম এই এলাকার রাস্তা।
আশ্বাস দেয়ার পরও তা আর বাস্তবায়ন না হওয়াতে আক্ষেপ ঋতুপর্ণা চাকমার মা ভূজোপতি চাকমার। সরকারী আশ্বাস অনুযায়ী সকল সমস্যা নিরসনের দাবি জানিয়েবলেছেন, ‘পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। সাফজয়ী হওয়ার পর আমাদের জমিসহ নতুন একটি ঘর এবং বেকার মেয়েদের কর্মসংস্থানের কথা বলা হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।
রাঙ্গামাটি মঘাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সাবেক প্রধান শিক্ষক ও রাঙ্গামাটির ক্রীড়া সংগঠক বীর সেন চাকমার হাত ধরেই উঠে এসেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও রুপনা চাকমার মত ফুটবলাররা। বীর সেনও জানান, আশ্বাসের পরও তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি ঋতুদের সাংসারিক অবস্থার। ঋতুপর্ণার মায়ের উন্নত চিকিৎসা ও সকল সংকট নিরসনে বর্তমান সরকারকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।








