চলতি বিপিএল শুরুর আগে বিপিএল গর্ভনিং কাউন্সিল জানিয়েছিল, পুরো আসরজুড়েই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এবং খেলোয়াড়দের উপর নজরদারি রাখবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইন্টেগ্রিটি ইউনিট। মূলত ফিক্সিং ঠেকাতেই বিসিবির এই উদ্যোগ। এবার বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিট আকসুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও আতিফ ফাহাদ। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই আকসুর সদস্যরা আফগান ক্রিকেটার রহমানুল্লাহ গুরবাজের হোটেল কক্ষে প্রবেশ করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ ঘটনায় বেশ বিরক্ত আফগান ব্যাটার।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে আকসুর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনেন আতিফ ফাহাদ। তিনি জানান, এ নিয়ে ক্ষুব্ধ গুরবাজ ঢাকা ক্যাপিটালস ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও উচ্চবাচ্য করেছেন। এমনকি ভবিষ্যতে বিপিএল খেলতে আসবেন কিনা তা নিয়েও ভাববেন।
বলেছেন, ‘গুরবাজ সারারাত ঘুমাতে পারে নাই। ৭টা কি ৮টার দিকে ঘুমিয়েছে। তার কক্ষের মধ্যে হুট করে কয়েকজন এসে কোনো অনুমতি কিংবা কাউকে না জানিয়ে নক করে ঢুকে গেছে। গুরবাজ আমাকে এসে বলতেছে, এগুলো কী? সে ১০-১৫ মিনিট ধরে দ্বিধান্বিত ছিল, বুঝতে পারছিল না এগুলো কী হচ্ছে।’
‘আকসুর লোকজন লোকজন তার মোবাইল ফোন চেক করলো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলো। পরবর্তীতে তারা যাওয়ার পর গুরবাজ আফগানিস্তানের এন্টি করাপশন ইউনিটকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করলো যে এভাবে কি কিছু করতে পারে কিনা এন্টি করাপশন। পরে আফগানিস্তানের এন্টি করাপশন ইউনিট থেকে তাকে বলল, অবশ্যই প্রথম ম্যানেজারকে জানাতে হবে, ম্যানেজার খেলোয়াড়কে জানিয়ে সময় নেবে। খেলোয়াড় সময় দেয়ার পর তাকে জেরা করতে পারে বা ভিন্ন কোন জিজ্ঞাসা থাকলে তার কাছে প্রশ্ন করতে পারে।’
‘কিন্তু এই যে একটা বিদেশি খেলোয়াড়কে এভাবে কক্ষে গিয়ে বিরক্ত করা, অনুমতি ছাড়া এমন কিছু করা আইসিসিও কখনো সমর্থন করে না। গুরবাজ আমাকে পরে বলছে, যদি এই ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে তো আমি আর এখানে খেলতে আসতে পারবো না। সে আরো বেশ কিছু গালিও ব্যবহার করেছে। তা বলতে পারছি না। কিন্তু বিষয়টা খুবই আমাদের দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে।’
একই ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে সাইফ হাসানকেও। ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও জানিয়েছেন, সম্প্রতি একটি ম্যাচের আগে সাইফ ব্যাটিংয়ে নামার আগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আকসু। নাম প্রকাশ না করে তিনি আরও জানান, একই ঘটনা ঘটেছে আরও অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গে। এসব ঘটনা ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটাচ্ছে বলে মনে করেন আতিক ফাহাদ।
ক্রিকেটার এবং টিম ম্যানেজমেন্ট মিলিয়ে আকসুর ইন্টেগ্রিটি ইউনিট এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মোবাইল জব্দ করেছে বলে জানিয়েছেন আতিক। এরমধ্যে তার ফোনও আছে। ৭২ ঘণ্টা পর ফেরত দিবে বলে ফোন নিলেও কয়েকদিন পেরিয়ে গেছে, তবে এখন পর্যন্ত মোবাইল ফেরত পাননি তিনি।
এছাড়া একটি ‘দল’ এর প্রতি বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন ঢাকার সিইও। তার মতে, বাকি সব দলের খেলোয়াড়দের সন্দেহজনক মনে হলেও ওই দলের খেলোয়াড়দের আকসু সবকিছুর উর্ধ্বে মনে করছে বলে অভিযোগ আতিকের । তবে দলটির নাম উল্লেখ করেননি তিনি।









