কোরবানি ঈদের বাকি এখনও দু’সপ্তাহের বেশি, তার ঝাঁজ বাড়তে শুরু করেছে মসলার বাজারে। এলাচ, জিরা, দারুচিনি, রসুন, ময়দা, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, হলুদ ও আদার দাম বেড়েছে। ক্রেতারা বলছেন: বাজারে যেন আগুন লেগেছে। এ আগুন নিয়ন্ত্রণহীন।
শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল, কাটাসুর, হাতিরপুল, রামপুরা, সেগুনবাগিচাসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে, সেখানকার ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এ চিত্র পাওয়া গেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ: অতি মুনাফার লোভে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে এভাবে একটার পর একটা পণ্যের দাম বেড়েই চলছে।
ঢাকার পাইকারি ও বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে: সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এলাচের। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এলাচের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি। অন্যান্য মসলার মধ্যে জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গের দাম গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
কেজিপ্রতি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ থেকে ৪০০০ টাকা। গতসপ্তাহে যেটা ছিলো ২৯০০ থেকে ৩৬০০ টাকা কেজি। দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০০ টাকা, এর আগে বিক্রি হয়েছে ৫৬০ টাকা পর্যন্ত। জিরা বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন: গেল প্রায় দুই বছরে ডলারের দাম ৩৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ডলারের অভাবে এলসি খোলায় সমস্যা হয়েছে। নগদ অর্থ জমা দিয়েও খোলা যায়নি। এলসি যদিও খোলা গেছে, ব্যাংক-দরের বেশি দরে ডলার কিনতে হয়েছে।
বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি আতিকুল হক দাবি করছেন: এবার ভারতেও এলাচের দাম বেশি। নতুন করে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ বেড়েছে। মসলার বাজার চড়া।’
কাঁচাবাজারের অবস্থা কী? জানতে চাইলে হাতিরপুলের সবজি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন: সবজির বাজার বেশ কিছুদিন থেকেই বাড়তির দিকে। কাঁচা মরিচের যে দাম, রাখাই বন্ধ করে দিয়েছি। দাম শুনলে ক্রেতা উল্টাপাল্টা কথা বলে। বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শশা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৮০ থেকে ২৪০ টাকা এবং আলু ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মসলার বাজারে মাস ব্যবধানে মূল্যবৃদ্ধির চিত্র
ঢাকার বাজারে আমদানি (ভারত-ইন্দোনেশিয়া) করা আদা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৬০ টাকা। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মসলা জিরা বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা প্রতিকেজি।
দাম বাড়ার দৌড়ে রয়েছে লবঙ্গ-এলাচ-দারুচিনিও। প্রতিকেজি লবঙ্গ ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা, এলাচ ৩২০০ থেকে ৪০০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
খোলা বাজারে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে আর মিনিকেট জাতের চাল ৬৪ থেকে ৭৬ টাকায়। পাশাপাশি খোলা বাজারে খোলা আটা কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা আর খোলা ময়দা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।
মাছ-মাংসের বাজার
মাছের বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের আমিষের চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখা পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, তেলাপিয়া ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা, চাষের কই ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাচকি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০ থেকে ৮০০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, সিলভার কার্প ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৬৮০ থেকে ১০০০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর মাংসের দাম। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা। খাসির মাংস প্রতি কেজি ১০০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ব্রয়লার ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি প্রতি কেজি ৩৭০ থেকে ৩৮০ এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।









