এবারের কোরবানির ঈদে পশু জবাইয়ের পর খুব দ্রুত সময়ে পরিচ্ছন্ন করা গেছে কোরবানির বর্জ্য। নাগরিকদের সচেতনতা বেড়েছে তার সাথে দুই সিটি কর্পোরেশন থেকে নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ কর্ম উদ্যোগ। রাজধানীবাসী নিজেদের উদ্যোগেই খুব দ্রুত পরিষ্কার করেছেন কোরবানির বর্জ্য। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন বরাবরের মত এবারও এগিয়ে আছে এই পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পশু কোরবানির জন্য জায়গা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত জায়গায় পশু জবাই হয়েছে কম। আগের মতই বাসার গ্যারেজ, খালি জায়গা, রাস্তা ও গলিতে পশু কোরবানি দেন। তবে নিজেদের সুবিধামতো জায়গায় পশু কোরবানি দিলেও বর্জ্য সংরক্ষণে নগরবাসী এবার বেশ সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে। রাজধানীবাসীর এ সচেতনতাকে ইতিবাচক ব্যাপার বলে মনে করছেন ঢাকার দুই সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা। তারা বলছেন: মানুষ আগের চেয়ে বেশি সচেতন হয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনের পলিব্যাগে বর্জ্য ভরে রেখে দিয়েছে। নিজেরা রক্ত পরিষ্কার করেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় নিজস্ব উদ্যোগে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রাজধানীবাসী এবার বেশ সচেতন হয়েছে। কল্যাণপুর, আহমদনগর, মিরপুর-১ নম্বর, খিলগাঁও ও মোহাম্মদপুর এলাকার মানুষ পশু কোরবানির পরে বর্জ্য ব্যাগে ভরে রেখেছেন। কোথাও কোথাও পশুর রক্ত নিজেরাই পরিষ্কার করেছেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়: উত্তরের অধিবাসীদের বর্জ্য অপসারণের সুবিধার্থে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ পচনশীল পলিব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার পলিব্যাগ বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়। ঈদের আগে ঢাকা উত্তরের মেয়র ১২ ঘণ্টার মধ্যে এবং দক্ষিণের মেয়র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন। ঈদ উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। চলতি বছর ঢাকা দক্ষিণে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত আছেন ৯ হাজার ৫০ জন কর্মী। এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৫৩টি গাড়ি। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তরে দায়িত্ব পালন করছে ৯ হাজার ৯৯০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং গাড়ি থাকছে ৫৮৫টি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মীরা সকাল ১০টা থেকেই বর্জ্য পরিস্কারের কাজ শুরু করেছেন। দ্রুত সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে আবারো রেকর্ড গড়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন।
এবারের কোরবানির ঈদে বর্জ্য পরিষ্কারে ঢাকাবাসী যে ভূমিকা নিয়েছে, যে সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে তা স্বাভাবিক নগর জীবনকে স্বস্থিদায়ক করেছে। আমরা আশা করবো আগামীতেও যেন মানুষ এইভাবে নিজেদের উদ্যোগেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা চালিয়ে যাবে। নগরকে বাস যোগ্য করে তুলতে সকলের সচেতন উদ্যোগী না হওয়ার বিকল্প নেই।







