নাটকীয় প্রথম ম্যাচে সুপার ওভারে জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ম্যাচেই সফরকারীদের পেতে হয় ভিন্ন অভিজ্ঞতা। অ্যাডাম মিলনের বোলিং তোপের পর টিম সেইফার্টের ব্যাটিং ঝড়ে সমতায় ফেরে নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় ও শেষ টি-টুয়েন্টি খেলায় আবারো বাইশ গজে ঝড় তুললেন সেইফার্ট। এরপর রোমাঞ্চ ছড়ানো খেলায় শেষ ওভারের মাত্র এক বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটের জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে কিউইরা।
শনিবার কুইন্সটাউনে হওয়া ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা লঙ্কানরা ৬ উইকেটে ১৮২ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে স্বাগতিকরা ১৯.৫ ওভারে ৬ উইকেট খুইয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
দুই ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস ৭৬ রানের জুটি গড়ে অতিথিদের ভালো সূচনা এনে দেন। নিশাঙ্কা ২৫ রান করে সাজঘরে ফিরলে এ জুটির অবসান হয়।
এরপর কুশল পেরেরাকে নিয়ে ৪৬ রান যোগ করেন ফিফটি তুলে নেয়া মেন্ডিস। ৪৮ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৬ রান করা এই ওপেনার বেন লিস্টেরের বলে শর্ট থার্ড ম্যাচে ইশ সোধির হাতে ধরা পড়েন।
ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে নিয়ে ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিলেন পেরেরা। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকলেও ২১ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ রান করে অ্যাডাম মিলনের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ক্রিজ ছাড়েন। আউট হওয়ার আগে ধনঞ্জয়া ৯ বলে ২০ এবং দাসুন শানাকা ৮ বলে ১৫ রানের মিনি ক্যামিও ইনিংস খেললে শ্রীলঙ্কা বড় স্কোর পায়।
ব্ল্যাক ক্যাপসদের হয়ে লিস্টের নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পান মিলনে ও সোধি।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকে। পাওয়ার প্লেতে এক উইকেট হারিয়ে তুলে ফেলে ৫৮ রান। চ্যাড বোয়েস ও সেইফার্ট গড়েন ৫৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। বোয়েস ১৭ রান করে লাহিরু কুমারার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক টম ল্যাথামের সঙ্গে জুটি গড়ে ঝড়ো ব্যাটিং করতে থাকেন সেইফার্ট। ৮৪ রানের এই জুটি কিউইদের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়। মহেশ থিকশানার ৩১ রান করা ল্যাথাম বোল্ড হলে জুটি ভাঙে।
সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে গিয়েও সেইফার্ট তা আদায় করতে পারেননি। তিনি ৪৮ বলে ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে প্রমোদ মাধুশানের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরেন।
শেষ ওভারে নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১০ রান, হাতে ছিল ৭ উইকেট। লাহিরুর প্রথম বলেই ছক্কা মেরে মার্ক চ্যাম্পম্যান কিউইদের জয়ের পথকে সহজ করেছিলেন।
পরের তিন বলে ঘটে মহানাটক। চ্যাম্পম্যান ১৬ রান করে আসালাঙ্কার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। পরের বলটি ওয়াইড হলেও রান আউটে কাটা পড়েন কোনো বল না খেলা জেমি নিশাম। ঠিক তার পরের বলে মারতে গিয়ে শানাকার হাতে ধরা পড়েন ১৫ রান করা ড্যারিল মিচেল। টানা তিন বলে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। হারতে বসা ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জয়ের আশা দেখতে থাকে।
ওভারের চতুর্থ বলে বাই থেকে এক রান আসলে সমীকরণ দাঁড়ায় দুই বলে ২ রান। পঞ্চম বলে রাচিন রবীন্দ্র কাট শটে দৌড়ে দুই রান নেন। রোমাঞ্চকর শেষ ওভারের মাত্র এক বল বাকি থাকতে ম্যাচের পাশাপাশি সিরিজও জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে লাহিরু তিনটি ও মাধুশান এবং থিকশানা একটি করে উইকেট দখল করেন। ম্যাচসেরার পাশাপাশি তিন ম্যাচে ৮৩.৫০ গড়ে ১৬৭ রান করায় সিরিজ সেরার পুরস্কারও যেতেন সেইফার্ট।







