লুভিয়া ডি প্যারিসো “সামুদ্রিক প্রাণীদের সাথে আমার আলাপচারিতার দিন” রচনায় তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। লুভিয়া কক্সবাজারে মিস্টারবিস্ট আয়োজিত সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জীবনে প্রথমবারের মতো অভূতপূর্ব এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। এদিন সে শুধু মানববন্ধনের প্রয়াসেই ছিল না—তার সাথে কথা বলেছিল সমুদ্রের প্রাণীরাও।
লাল ভূত কাঁকড়ার সঙ্গে প্রথম দেখা হয় লুভিয়ার। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত লুভিয়া হঠাৎই দেখে, একটি লাল ভূত কাঁকড়া তার পায়ের কাছে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে, এই জায়গাটি পরিষ্কার করার জন্য ধন্যবাদ। লুভিয়া প্রথমে ধারণা করে, হয়তো ক্লান্তির কারণে সে বিভ্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু কাঁকড়াটি আবার তাকে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ বাড়িয়ে দিয়ে বলে, আমাকে সাহায্য করতে দাও। এতটাই অবাক হয়েছিল লুভিয়া যে প্রশ্ন করেই ফেলেছিল, তুমি কি কথা বলছো? কাঁকড়ার উত্তর, হ্যাঁ, আমি বলছি। এরপর ক্লান্ত হয়ে কাঁকড়াটি জলে ফিরে যায়।
এরপর লুভিয়া দেখে এক বাদামী-মাথাওয়ালা গাঙচিল একটি মৃত মাছ গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে। সে গাঙচিলকে থামতে অনুরোধ করে। কারণ ব্যাখ্যা করলে গাঙচিল বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করে, আমি বুঝতে পারছি না, তুমি কি ব্যাখ্যা করবে? লুভিয়া তাকে জানায় যে মাছটি সম্ভবত প্লাস্টিক খেয়ে মারা গেছে। ফলে সেই মাছ খেলে গাঙচিলও একই বিপদে পড়বে। গাঙচিল বিষয়টি বুঝে নিয়ে উড়ে যায়।
পরের ঘটনাগুলো আরও চমকপ্রদ। পরিষ্কার করতে গিয়ে লুভিয়া ভুল করে একটি হলুদ-পেটযুক্ত সামুদ্রিক সাপকে তুলে নেয়। সাপটি ঘুম থেকে উঠে বিরক্ত হয়ে বলে, তুমি আমার ঘুম ভেঙে দিলে। লুভিয়া দুঃখ প্রকাশ করলে সাপটি আবার বালুর নিচে ফিরে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর ঢেউয়ের ধাক্কায় একটি ইরাবতী ডলফিন তীরে আটকে পড়ে। লুভিয়া তাকে সমুদ্রে ফিরতে সাহায্য করে। ডলফিন কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাঁতরে চলে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই এক ইরাবতী কাঠবিড়ালি লাফিয়ে তার পিঠে উঠে বলে, এসো! এসো! কাঠবিড়ালিটি লুভিয়াকে নিয়ে যায় কাছের কয়েকটি খেজুর গাছের কাছে, যেখানে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ আবর্জনা ফেলে দিতে সাহায্য করার জন্য কাঠবিড়ালিরা একত্র হয়।
হঠাৎই আকাশভরা অসপ্রে পাখি এসে আবর্জনার ব্যাগে আবর্জনা ফেলতে শুরু করে। একজন এসে লুভিয়ার কাঁধে বসে। তার বিরক্তি দেখে লুভিয়া বলে, বিরক্ত লাগলে পরিষ্কারে সাহায্য করো। অসপ্রে পাখিটি রাজি হয়ে আবার উড়ে গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ শুরু করে।
সবকিছু প্রায় শেষ মুহূর্তে এসে সমুদ্রের ঢেউ নতুন করে আনে প্লাস্টিকে ভরা আবর্জনা। হতাশ হলেও লুভিয়া ও তার বন্ধুরা আবার কাজে নেমে পড়ে। সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার করতে সবাই মিলে শেষবারের মতো সংগ্রাম চালায়। শেষে অসপ্রে পাখির দল ফিরে এসে বাকি আবর্জনাও ব্যাগে ভরে দেয়।
সবশেষে মিস্টারবিস্ট এসে জিজ্ঞেস করেন, শেষ? লুভিয়া উত্তর দেয়—অবশ্যই।
লুভিয়া বলে, সামুদ্রিক প্রাণীদের সাথে কথা বলতে পেরে আমি খুব খুশি। এমন অভিজ্ঞতা জীবনে খুব কম মানুষই পায়।
এটি ছিল সমুদ্র, প্রকৃতি এবং প্রাণীদের সাথে এক শিশুর অবিশ্বাস্য, জাদুকরি দিনের গল্প—যেখানে বন্ধুত্ব, পরিবেশ সচেতনতা এবং প্রাণ ভালোবাসা মিলেমিশে এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
প্রসঙ্গত, কুইন্স কমনওয়েলথ রচনা প্রতিযোগিতা (কিউসিইসি) ২০২৫–এ জুনিয়র ক্যাটাগরিতে (১৪ বছরের নিচে) দ্বিতীয়বারের মতো সিলভার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে ঢাকার ছাত্র লুভিয়া ডে পারিসো। সৃজনশীল লেখালেখিতে তরুণ প্রতিভাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া এই প্রতিযোগিতায় তিনি ২০২৪ সালেও ‘সামুদ্রিক প্রাণীদের সাথে আমার আলাপচারিতার দিন; রচনার জন্য একই পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।









