চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Oikko

ওয়েলসকে হারিয়ে এবার এশিয়ার পতাকা ওড়াল ইরান

Oikko SME

আর্জেন্টিনাকে সৌদি আরব, জার্মানিকে জাপান হারানোর পর উরুগুয়েকে আটকে দিয়েছিল সাউথ কোরিয়া। ওয়েলসকে হারিয়ে এবার এশিয়ার পতাকা ওড়াল ইরানও। ২-০ ব্যবধানে জিতেছে দেশটি।

Reneta June

একের পর এক আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ, অফসাইডে গোল বাতিল, পোস্টে লেগে বল ফিরে আসা, লাল কার্ড- কত ঘটনার জন্মই না দিয়েছে ইরান ও ওয়েলসের ম্যাচ। গোলের খেলা ফুটবলে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার আগে নাটকীয়ভাবে জোড়া গোল করার সুবাদে শেষ হাসি ইরানিদের।

এ দুদল আগে কেবল একবারই মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে। সেই দেখায় ১-০ গোলে জিতেছিল ওয়েলস। ৪৪ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপ মঞ্চে দারুণ শোধ তুলল ইরান।

শুক্রবার আহমাদ বিন আলী স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের খেলার তৃতীয় মিনিটেই সুযোগ এনেছিল ওয়েলস। হ্যারি উইলসনের অ্যাসিস্টে বল পেয়ে ডান পায়ে দূরপাল্লার শট নেন ডিফেন্ডার নেকো উইলিয়ামস। পোস্টের অনেক উপর দিয়ে বল বাইরে চলে যায়।

পরে নিয়মিত বিরতিতে আক্রমণে যেতে থাকে ইরান। সপ্তম মিনিটে মেহদী তারেমির পাসে বল পাওয়া সর্দার আজমউনের ডান পায়ের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। পাঁচ মিনিট পর কেইফার শট সেভ করেন ইরানি গোলরক্ষক হোসেইন হোসেইনি, জায়গায় দাঁড়িয়ে ঠেকান বিপদ।

ম্যাচের ১৫ মিনিটে গোল পেয়ে গিয়েছিল ইরান। আজমউনের পাসে বল পেয়ে মিডফিল্ডার আলী ঘোলিজাদেহ জালে জড়ান। ভিএআরে দেখে রেফারি অফসাইডের সংকেত দেন। গোল বাতিল।

খেলার ২৩ মিনিটে আজমউনের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ছয় মিনিট পর কেইফার মুরের পাসে বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নেন ওয়েলস তারকা গ্যারেথ বেল। গোলরক্ষক হোসেইন হোসেইনি তা প্রতিহত করেন।

যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে স্ট্রাইকার আজমউনে গোলের দারুণ সুযোগ পান। স্লাইড করে বল পায়ে লাগাতে পারলে খুঁজে পাওয়া যেত জালের খোঁজ। বল থেকে তার পায়ের দূরত্ব এক ইঞ্চি ব্যবধান থাকায় লক্ষ্যভেদ হয়নি।

তিন মিনিট পর আহমাদ নুরুল্লাহির দূরপাল্লার শট ঠেকান ওয়েলস গোলরক্ষক ওয়েইন হেন্নেসসে। তাতে গোলশূন্য থাকে প্রথমার্ধ।

ম্যাচের ৫১ থেকে ৫২ মিনিটের ভেতর অদ্ভুত এক দৃশ্যের সাক্ষী হন দর্শকরা। প্রথমে পাল্টা আক্রমণ থেকে এহসান হাসাফির বাড়ানো বল আদায় করে ডান প্রান্ত থেকে শট নেন আজমউন। বল ডান পোস্টে লেগে ফেরে। ফিরতি বলে দূরপাল্লার শট নেন আলী ঘোলিজাদেহ। এবার গোলরক্ষক সম্পূর্ণ পরাস্ত হলেও বাঁ-পোস্টে বল লাগে। ফিরতি বলেও গোলের সম্ভাবনা ছিল। আজমউনের হেড হেন্নেসসের শরীরে লেগে রক্ষা মেলে ওয়েলসের।

পরে ৬০ মিনিটে ইরানকে দুর্ভাগ্য যেন আরও পেয়ে বসে। দুর্দান্ত খেলতে থাকা আজমউন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। কয়েক সেকেন্ড পর মাঠে ফিরলেও ৬৭ মিনিটে তাকে বেঞ্চে বসাতে বাধ্য হন কোচ কার্লোস কুইরোজ।

ম্যাচের ৭৩ মিনিটে হেন্নেসসের নৈপুণ্যে হাতছাড়া হয় ইরানের আরেকটি গোলের সুযোগ। তারেমির পাসে ডান পায়ে দুরন্ত শট নেন সাঈদ এজাতোলাহি। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে আঙুলে বল লাগিয়ে দলকে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন ওয়েলস গোলরক্ষক।

বল নিয়ে অনেকখানি ছুটে যাওয়া তারেমি সামনে গোলরক্ষককে একা পেয়ে গিয়েছিলেন। বক্সের বাইরে এসে বলে কিক মারতে যান ওয়েলস গোলরক্ষক ওয়েইন হেন্নেসসে। তার লাথি সরাসরি তারেমির মুখে আঘাত হানে। হেন্নেসসে হলুদ কার্ড দেখলেও নাখোশ ছিলেন ইরানের ফুটবলাররা। রেফারিকে তারা ঘিরে রেখে তর্ক করতে থাকেন। পরে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে রেফারি হেন্নেসসেকে লাল কার্ড দেখান।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে লাল কার্ড দেখলেন হেন্নেসসে। ২০১০ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেছিলেন সাউথ আফ্রিকার ইতুমেলেং খুনে। প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে নরওয়ের বিপক্ষে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে লাল কার্ড পাওয়া গোলরক্ষক ছিলেন ইতালির জিয়ানলুকা পাগলিউকা।

যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে ইরানের কপাল খুলে যায়। বক্সের বাইয়ে থেকে ডান পায়ে ডিফেন্ডার রুজবেহ চেশমি নজরকাড়া শটে গোল আসে। আনন্দে ভাসে কুইরোজের দল।

তিন মিনিট পর ওয়েলসকে স্তব্ধ করে দিয়ে পাল্টা আক্রমণে তারেমির পাসে বল পেয়ে জালে জড়ান আরেক ডিফেন্ডার রামিম রেজাইয়ান। তাতে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া দলটি তোলে আসরে নিজেদের প্রথম জয়।

Oikko Uddokta