দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে ২৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সামরিক এই কুচকাওয়াজে নতুন ধরনের লেজার অস্ত্র, পারমাণবিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিশাল আকারের পানির নিচে চালিত ড্রোনসহ একাধিক আধুনিক অস্ত্র উন্মোচন করেছে চীন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অনুষ্ঠানের আগে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, চীনকে কেউ থামাতে পারবে না এবং চীন কখনোই কোনো রকম হুমকির কাছে মাথা নত করবে না।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রথমবারের মতো একসঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন শি, পুতিন ও কিম।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কুচকাওয়াজে শি জিনপিং-এর আক্রমণাত্মক উচ্চাভিলাষ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে, গণতান্ত্রিক দ্বীপ তাইওয়ান নিয়ে চীনের সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার আভাস পাওয়া গেছে এই আয়োজনে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে শি, কিম ও পুতিনকে মার্কিনবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে অভিযোগ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কুচকাওয়াজের অন্যতম মূল বার্তা হলো চীন এখন দ্রুত ও বৈচিত্র্যপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি তৈরি করতে পারছে।
নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্লেষক মাইকেল রাসকা বলেন, ১০ বছর আগেও চীনের সামরিক প্রযুক্তি ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত সরঞ্জামের সাধারণ নকল। কিন্তু আজকের কুচকাওয়াজে যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শিত হয়েছে, তা অনেক বেশি উদ্ভাবনী ও আধুনিক।
তিনি আরও বলেন, চীনের শীর্ষ-নির্ভর গঠন ও বিশাল সম্পদ তাদেরকে ব্যাপক হারে নতুন অস্ত্র উৎপাদনে সক্ষম করেছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক দ্রুত।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশ্ন হলো, এই বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার চীনের সামরিক বাহিনী কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবে? কাগজে-কলমে শক্তিশালী হলেও চীনের সামরিক বাহিনীর অভাব রয়েছে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার।









