পাঞ্জাবের বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতে জারি করা বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া অভিবাসীদের এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়, যাদের কাছে সঠিক পরিচয়পত্রের কাগজপত্র নেই তাদের এই গ্রামগুলিতে বসবাস করতে দেওয়া হবে না। হোশিয়ারপুর জেলার প্রায় ২৭টি গ্রামে এই ধরনের প্রস্তাব পাস করা হয়।
মঙ্গলবার ৯ সেপ্টেম্বর হোশিয়ারপুরে একজন অভিবাসী শ্রমিকের পাঁচ বছরের এক ছেলের নৃশংস হত্যার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যের বিভিন্ন অংশে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
রোববার চাব্বেওয়াল পঞ্চায়েত তাদের এই প্রস্তাব পাস করা হয়।
১৩ সেপ্টেম্বর বাজওয়ারা গ্রামে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চক সাধু, নন্দন, সিংপুর, বাসি বাহিয়ান, দাদা, কিলা বরুন, এলাহাবাদ, বিলাসপুর এবং আনন্দগড় সহ প্রায় ২৭টি গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় একটি যৌথ প্রস্তাব পাসে বলা হয়, পঞ্চায়েতগুলি আর পাঞ্জাব সরকার কর্তৃক জারি করা বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের কোনও সরকারী নথি যাচাই করবে না। এই ধরনের অভিবাসীদের গ্রামে থাকতে দেওয়া হবে না।
বাজওয়াড়ার সরপঞ্চ রাজেশ কুমার ওরফে ববি মাহে বলেন, “বৈধ পরিচয়পত্রবিহীন অভিবাসীদের গ্রাম ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই আধার বা প্যান কার্ডের নথিপত্র নিয়ে এখানে বাস করছেন তাদের জানানো হয়েছে যে বাইরে থেকে আসা তাদের আত্মীয়স্বজনরা পঞ্চায়েত কর্তৃক নাগরিকত্ব সনদ যাচাইয়ের জন্য যোগ্য হবে না।”
তিনি আরও বলেন, ভাড়ায় বসবাসকারী অভিবাসী শ্রমিকরা কেবল তখনই তা করতে পারবেন, যদি তাদের বাড়িওয়ালারা পঞ্চায়েতের কাছে লিখিতভাবে অঙ্গীকারপত্র জমা দেন এবং তাদের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেন।
মাহে দাবি করেন যে, বর্তমানে প্রায় ২০০-২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক বাজওয়াড়ায় বাস করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে তাদের অনেকেই পঞ্চায়েতের জমি অবৈধভাবে দখল করেছে, ভাড়া না দিয়ে বা আইনি অনুমতি না নিয়ে বিদ্যুৎ মিটার এবং জল সংযোগসহ স্থায়ী বাড়ি তৈরি করেছে। এই দখল সম্পর্কে ৮ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।









