কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কনকনে শীতের হাওয়া বইছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও খেটে খাওয়া মানুষরা শীতের কারণে ভুগছেন।
আজ ৯ জানুয়ারি শুক্রবার কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজারহাট সদর উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রুবেল মিয়া বলেন, “শীতের কারণে সকালে রিকশা নিয়ে কাজে যেতে পারছি না, এতে সংসারে কষ্ট হচ্ছে।” সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বাবু মিয়া জানান, “আমি নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। শীতের কারণে গত কয়েকদিন ধরে মাছ ধরতে পারছি না, ফলে সংসার চলে না।”
চরাঞ্চলবাসী নছিয়ত মিয়া বলেন, “ঠান্ডার কারণে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারি না, কাজকর্ম হয় না।” একই এলাকার আরও একজন বলেন, “ঠান্ডায় কাজ না করলে পেটে ভাত যায় না। কাজ করলে হাত-পা জ্বালাপোঁড়া হয়, ঠিকমতো কাজ করা সম্ভব হয় না।” কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খায়রুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত ঠান্ডায় আমার ছেলের কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া হয়েছে।”
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, “জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। কিছু রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার কিছু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।”
কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকতা আব্দুল মতিন জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলছে এবং নগদ ৪০ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে।









