জাতীয় নির্বাচনের তফসিল বাতিলের দাবীতে ১৪১ জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট মানুষ। তারা বলেন, বিবৃতিটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিবৃতির বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠ নয় এবং এই বিবৃতিতে যেসব তথ্য-উপাত্তের উল্লেখ করা হয়েছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।
শুক্রবার ২৪ নভেম্বর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা এই প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে সাক্ষর করেছেন ৩৮৫ বিশিষ্ট নাগরিক। তারা বলেন, কমিশন এই তফসিল ঘোষণার পূর্বে কমিশনের সব স্টেকহোল্ডারের সাথে বহুবার আলোচনা করেছে এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে কমিশনের সাথে মতবিনিময়ের জন্য একাধিকবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
তারা বলেন, কমিশনের এই আহ্বানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও সমমনা দলগুলো কমিশনের সাথে আলোচনা করেনি। এমনকি তাদেরকে কমিশন থেকে পৃথকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা সেই আলোচনায় সাড়া দেয়নি, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের বিধিসম্মত তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশনের সাথে নিবন্ধিত সব দলের অংশগ্রহণের উন্মুক্ত সুযোগ বিদ্যমান, তাকে ‘একতরফা তফসিল’ বলার কোনও অবকাশ আছে বলে আমরা মনে করি না।
ঘোষিত তফসিল কমিশনের সাথে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের জন্য প্রযোজ্য এবং উন্মুক্ত। তাহলে কীভাবে এই তফসিল একতরফা হয় এবং কীভাবে অবসরপ্রাপ্ত কিছু সরকারি কর্মকর্তা কমিশনের সংবিধান সম্মত তফসিলকে এক তরফা তফসিল হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের জন্য সুপারিশ করেন তা সর্বসাধারণের কাছে বোধগম্য নয়। এই প্রয়াস বাংলাদেশকে একটি সাংবিধানিক শূন্যতার দিকে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর।
সরকারের পদত্যাগের জন্য আন্দোলন, আন্দোলনের নামে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাস, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারকদের বাসভবনে হামলা, কর্তব্যরত পুলিশকে নির্মমভাবে হত্যা করে নিহত পুলিশের হেলমেট খুলে চাপাতি দিয়ে মাথায় কোপানো, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হাসপাতালসহ অন্যান্য স্থাপনায় নাশকতার নিন্দাও জানান তারা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন, বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সচিব ও সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এর সাবেক সদস্য কে. এইচ. মাসুদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সাবেক সচিব ও সাবেক সদস্য উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত, সাবেক আইজিপি, সচিব ও কলামিস্ট মোহাম্মদ নুরুল হুদা, সাবেক আইজিপি ও রাষ্ট্রদূত ড. হাসান মাহমুদ খন্দকার, রাষ্ট্রদূত মো. আব্দুল হান্নান, রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ, একেএম আতিকুর রহমান, মুন্সী ফয়েজ আহমেদ, চৌধুরী ইখতিয়ার মমিন, সাবেক সিনিয়র সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী, সাবেক সচিব অপরূপ চৌধুরী, অশোক কুমার বিশ্বাস, ড. প্রশান্ত কুমার রায়, মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, সুবীর কিশোর চৌধুরী প্রমুখ।







