সম্প্রতি সিডনিতে বসবাসকারী একজন ভারতীয় নারী অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য সরকারের দ্বারা বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়ে অবশেষে ভারতে ফিরে একটি জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে মারা গেছেন।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম নিউজ এইটিন জানিয়েছে, ভারতে ফিরে আসার একদিন পর গত (২০ আগস্ট) রোববার অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী প্রিয়দর্শিনী পাতিল নামক একজন ভারতীয় অস্ট্রেলিয়ান রাজ্য সরকারের সম্প্রদায় ও বিচার বিভাগের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়ে ভারতের কর্ণাটকের বেলাগাভিতে একটি জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে তার জীবন শেষ করেছেন।
প্রিয়দর্শিনী দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী এবং দুই কিশোর সন্তানের সাথে সিডনিতে বসবাস করছিলেন। অস্ট্রেলিয়া থেকে একা ভারতে ফিরে ধারওয়াড়ে তার বাড়িতে যাওয়ার পরিবর্তে, তিনি বেলাগাভিতে যান এবং সেখানে সাভাদত্তির নাভিলুতীর্থ নামক জলাধারে ঝাঁপ দেন। এর আগে তিনি তার সন্তানদের অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্টসহ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র তার পরিবারের কাছে পাঠিয়েছিলেন।
আট বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার ডাক্তারদের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করার পর প্রিয়দর্শিনীর ১৭ বছর বয়সী ছেলে অমর্ত্যর স্বাস্থ্য জটিলতা তৈরি হয়। এই ঘটনার পর প্রিয়দর্শিনী সেখানকার পাবলিক হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু দেশটির সম্প্রদায় ও বিচার বিভাগ তাকে এবং তার স্বামীকে উল্টো তাদের শিশুদের সঠিক যত্ন না নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করে এবং জন্মসূত্রে দেশটির নাগরিক তাদের দুই শিশুকে তাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়।
এমন অবস্থায় বাচ্চাদের অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিল করে ভারতে ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন প্রিয়দর্শিনী। কিন্তু এতে কমপক্ষে এক বছর সময়ের প্রয়োজন ছিল। এই এক বছর অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের শান্তিতে থাকতে দিবে না এই দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।
একটি নোটে তিনি দাবি করেছেন, তার বাড়িতে বিষাক্ত পানি সরবরাহ করা হয়েছে এবং কোন কারণ ব্যাখ্যা না করে তার মৃত্যুর জন্য সিডনির প্রতিবেশীদেরকে দায়ী করেছেন।








